পঞ্চগড়ে তীব্র শীতে বিপর্যস্ত জনজীবন

জেলা প্রতিনিধি :

পঞ্চগড়ে তীব্র শীতের কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) জেলার তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে সকাল ৬টায় তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

হিমালয়ের হিমেল বাতাসের কারণে তাপমাত্রা এক অঙ্কে নেমে এসেছে। মৃদু শৈত্যপ্রবাহের পাশাপাশি ঘনকুয়াশা বিরাজ করায় শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে। গত তিন দিন ধরে দিনভর কুয়াশায় আচ্ছন্ন ছিল পঞ্চগড়।

শীতের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন ছিন্নমূল দরিদ্র মানুষ, দিনমজুর, কৃষি ও পাথর শ্রমিকরা। কাজকর্ম বন্ধ থাকায় তাদের আয়-রোজগার কমে গেছে। গরম কাপড়ের অভাবে এসব মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

শহরের অটোচালক দেলোয়ার হোসেন বলেন, “সকালে ঘনকুয়াশা আর হিমেল বাতাসে গাড়ি চালানো যায় না। যাত্রীও কম পাওয়া যায়। আয় কমে যাওয়ায় পরিবার চালানো কষ্টকর হয়ে পড়েছে।”

দিনমজুর লুৎফর মিয়া জানান, “শীতের সময় কাজ পাওয়া যায় না। কাজ না করলে আয় হয় না, আর আয় না হলে খেয়ে না খেয়ে থাকতে হয়।”

চা শ্রমিক আলেয়া খাতুনের কথায় উঠে এসেছে তাদের কষ্টের চিত্র। তিনি বলেন, “সকাল বেলায় চা গাছের পাতা তুলতে গেলে ঠান্ডায় হাত-পা অবশ হয়ে যায়। কাজ করতেও খুব কষ্ট হয়।”

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানিয়েছেন, হিমালয়ের হিমেল বাতাস প্রবাহিত হওয়ায় তাপমাত্রা দ্রুত কমছে। রাত থেকে সকাল পর্যন্ত ঘনকুয়াশা থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, শীতবস্ত্রের অভাবে ছিন্নমূল ও শ্রমজীবী মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। তাদের সহায়তায় দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

পঞ্চগড়ে শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করছে স্থানীয় প্রশাসন।