পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দাবিতে মামলা প্রত্যাহার ও চাকরি পুনর্বহালের আহ্বান

অনলাইন ডেস্ক:

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (পবিস) কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার, চাকরিতে পুনর্বহালসহ পাঁচ দফা দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। গতকাল (মঙ্গলবার) বেলা ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে তারা দাবি করেন, বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) দমন-পীড়ন বন্ধ করে সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে।

১. মামলা প্রত্যাহারপূর্বক সকল বরখাস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরিতে পুনর্বহাল।
২. দ্বৈতনীতি পরিহারপূর্বক আরইবি-পবিস একীভূতকরণ অথবা অন্যান্য বিতরণ সংস্থার ন্যায় পুনর্গঠন।
৩. অবশিষ্ট চুক্তিভিত্তিক ও অনিয়মিত কর্মীদের চাকরি নিয়মিতকরণ।
৪. আরইবি কর্তৃক পবিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হয়রানি ও উসকানিমূলক কার্যক্রম বন্ধ।
৫. অতীতে আরইবির দুর্নীতির তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির জন্য নিরপেক্ষ কমিশন গঠন।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা জানান, দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রায় ৪৫ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী ১৪ কোটি মানুষের বিদ্যুৎ সেবায় নিয়োজিত। কিন্তু নিয়ন্ত্রক সংস্থা আরইবির সীমাহীন দুর্নীতি, নিম্নমানের মালামাল ক্রয়, এবং গ্রাহক ভোগান্তির ফলে ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে চাকরিবিধি সংস্কার ও চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীদের নিয়মিতকরণের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়।

বক্তারা বলেন, সরকারের নীতিনির্ধারকদের কাছে স্মারকলিপি প্রদান, কর্মবিরতি, লং মার্চ, মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হলেও আরইবি উল্টো বিদ্যমান কাঠামো বহাল রাখার চেষ্টা করেছে। আন্দোলনের জেরে গত ১৬ অক্টোবর আরইবি বিনা নোটিশে ১০ জন কর্মকর্তাকে চাকরিচ্যুত করে এবং তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা দায়ের করা হয়। এরপর আরও ১৪ জনকে বরখাস্ত ও গ্রেপ্তার করা হয়।

পবিস কর্মকর্তারা অভিযোগ করেন, চাকরিচ্যুতি, বিনা নোটিশে বদলি, ওএসডি করা এবং কর্মীদের ওপর দমন-পীড়ন চালানোর মাধ্যমে আরইবি পরিকল্পিতভাবে পরিস্থিতিকে অস্থিতিশীল করেছে। গত তিন মাসে প্রায় ৫০০ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে।

বক্তারা আরও বলেন, বিদ্যুৎ খাতের সংস্কারের জন্য সরকারের জাতীয় কমিটি গঠন করা হলেও আরইবি সেটিকে উপেক্ষা করে নিজস্ব কমিটি গঠন করেছে, যা উদ্দেশ্যমূলক।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, “আমরা সব ধরনের কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছি এবং সরকারের প্রতি আস্থা রেখেছি। কিন্তু তবুও মামলা, বরখাস্ত ও হয়রানি অব্যাহত রয়েছে। আমরা সরকারের কাছে অনুরোধ করছি, যেন দ্রুত জাতীয় কমিটির প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিদ্যমান সংকটের সমাধান করা হয়।”

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মীরা দেশব্যাপী নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর জানিয়ে তারা বলেন, “আমরা কোনো বিশৃঙ্খলা চাই না, তবে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুতদের পুনর্বহাল করা এবং বিদ্যুতায়ন বোর্ডের দমন-পীড়ন বন্ধ করতে হবে।”

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম (ওএন্ডএম) আব্দুল হাকিম, মো. সালাহউদ্দিন, ডিজিএম মো. রাহাত, মো. আসাদুজ্জামান ভূঁইয়াসহ ভুক্তভোগী আরও অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী।