অনলাইন ডেস্ক:
পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের সীমান্তে দুই দেশের সীমান্তরক্ষীদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে পাকিস্তানের ১৯ সেনাসহ অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে আফগানিস্তানের তিনজন বেসামরিক নাগরিকও রয়েছেন। চীনা সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া শনিবার এ তথ্য জানিয়েছে।
সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশ এবং আফগানিস্তানের খোস্ত প্রদেশের মধ্যবর্তী সীমান্ত এলাকায়। চলতি সপ্তাহে আফগানিস্তানের মূল ভূখণ্ডে পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জেরে এই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের সীমান্ত বাহিনী ভারী অস্ত্র ব্যবহার করে একে অপরের ওপর আক্রমণ চালায়।
আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আফগানিস্তান প্রতিশোধমূলক হামলায় পাকিস্তানের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট লক্ষ্য করে আঘাত হানে। খোস্ত প্রদেশের আলি শির জেলায় পাকিস্তানি সামরিক চৌকিতে আগুন ধরিয়ে দেয় এবং পাকতিয়া প্রদেশে দুটি পাকিস্তানি পোস্ট দখল করে।
ডুরান্ড লাইন, যেটি পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে আন্তর্জাতিক সীমান্ত হিসেবে গণ্য হলেও আফগানিস্তান কখনো তা স্বীকৃতি দেয়নি, এই সংঘর্ষে আবারও উত্তেজনার কেন্দ্রে এসেছে। আফগানিস্তানের দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের পশতুন জনগণের জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক ও স্পর্শকাতর ইস্যু।
এর আগে, পাকিস্তান সেনাবাহিনী ২৪ ডিসেম্বর রাতে আফগানিস্তানের পাকতিকা প্রদেশে হামলা চালায়। এতে অন্তত ৪৬ জন নিহত হন, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। এ হামলাকে তালেবান সরকার ‘বর্বর’ এবং ‘স্পষ্ট আগ্রাসন’ বলে নিন্দা জানায়।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ বলেছেন, “আমরা আফগানিস্তানের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক চাই, তবে আমাদের নিরপরাধ নাগরিকদের হত্যা করা থেকে টিটিপিকে থামাতে হবে। এটি আমাদের রেড লাইন।”
এই সংঘর্ষের ফলে দুই দেশের মধ্যকার অস্থিতিশীলতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।











