পীরগঞ্জ সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি নিহতের দাবি, বিজিবি নিশ্চিত করেছে একজন

জেলা প্রতিনিধি :

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) গুলি চালালে দুই বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও স্বজনেরা। এ ঘটনায় আরও একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এখন পর্যন্ত একজন বাংলাদেশির নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। নিহতের সংখ্যা নিয়ে দুই পক্ষের তথ্যে ভিন্নতা থাকায় ঘটনাটি নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

 

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভোরে পীরগঞ্জ উপজেলার চান্দেরহাট বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত পিলার ৩৩৩-এমপির কাছাকাছি এ ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। আহত তিনজনকে বিএসএফ সদস্যরা উদ্ধার করে ভারতের কালিয়াগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি জানিয়েছেন।

 

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহত দুজন হলেন দক্ষিণ ইন্দ্রইল গ্রামের ওয়াজ উদ্দীনের ছেলে আসাদুজ্জামান এবং উত্তর ইন্দ্রইল গ্রামের আহেদ আলীর ছেলে মোস্তাকিম। তাদের বয়স যথাক্রমে ৩৮ ও ৩৫ বছর বলে একটি সূত্র জানিয়েছে। আহত ব্যক্তি একই গ্রামের মুনষা নারায়ণের ছেলে শ্রী উদয়।

 

বৈরচুনা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য শাহাজাহান আলী বলেন, বিএসএফের গুলিতে নিহত দুজনই তাদের এলাকার বাসিন্দা। ভারতীয় স্থানীয় বাসিন্দা ও সংবাদমাধ্যমের মাধ্যমে তারা দুজনের মৃত্যুর খবর পেয়েছেন বলেও জানান তিনি।

 

স্থানীয় সূত্রের দাবি, ভারতের কালিয়াগঞ্জের ৬৩ চকশিবানন্দ বিএসএফ ক্যাম্পের একটি টহলদল সীমান্তের ওই এলাকায় গুলি চালায়। এতে তিন বাংলাদেশি গুরুতর আহত হন। পরে বিএসএফ সদস্যরা তাদের ভারতের একটি হাসপাতালে নিয়ে যান।

 

তবে বিজিবির দেওয়া তথ্যের সঙ্গে স্থানীয়দের দাবির কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। ৪২ বিজিবির সিইও আবদুল্লাহ আল মঈন জানিয়েছেন, বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে বিএসএফের গুলিতে একজন বাংলাদেশি নিহত হওয়ার বিষয়টি তারা জানতে পেরেছেন। তবে বিএসএফের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানানো হয়নি।

 

বিজিবির পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে পতাকা বৈঠকের প্রক্রিয়াও চলছে বলে জানিয়েছেন আবদুল্লাহ আল মঈন।

 

এর আগে ৪২ বিজিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, শুক্রবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে পীরগঞ্জ সীমান্ত থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশি চোরাকারবারিদের একটি দলের ওপর বিএসএফের চকশিবানন্দ ক্যাম্পের সদস্যরা গুলি চালান। এতে আসাদুল হক নামে এক ব্যক্তি আহত হন। পরে তাকে ভারতের রায়গঞ্জের একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

 

বিজিবির ওই বিজ্ঞপ্তিতে আসাদুল হককে চিহ্নিত মাদক চোরাকারবারি হিসেবে উল্লেখ করা হয়। মানব পাচারের সঙ্গেও তিনি জড়িত ছিলেন বলে বিজিবির দাবি। তার বিরুদ্ধে পীরগঞ্জ থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

 

অন্যদিকে স্থানীয়দের দাবি, ঘটনাটি সীমান্ত পিলার ৩৩৩-এমপির কাছে শনিবার ভোরে ঘটে এবং বিএসএফের গুলিতে তিন বাংলাদেশি আহত হন। পরে কালিয়াগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে দুজনের মৃত্যু হয়।

 

ফলে স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী নিহতের সংখ্যা দুই হলেও বিজিবি এখন পর্যন্ত একজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বিএসএফের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে নিহতের সংখ্যা ও ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হবে।