ফ্রান্স ও স্পেনে ভয়াবহ দাবানল, নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছেন দমকল কর্মীরা

অনলাইন ডেস্ক:

দাবানাল নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খাচ্ছে ফ্রান্স ও স্পেনের দমকল কর্মীরা। দাবানলের কারণে শনিবার পর্যন্ত প্রায় দুই লাখ মানুষ তাদের বাড়িঘর ও অবকাশযাপন কেন্দ্র ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন বলে জানিয়েছে আল-জাজিরা অনলাইন। ফ্রান্স ও স্পেনে দাবানলের কারণে সরে যেতে বাধ্য হওয়া মানুষের মোট সংখ্যা এখন ২ লাখ ২০ হাজারের বেশি।

 

স্পেনের দমকলকর্মীরা শনিবার রাজধানী মাদ্রিদের কাছে ছড়িয়ে পড়া দাবানল নিয়ন্ত্রণে আনার আশা করেছিলেন। কিন্তু একজন কর্মকর্তা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, অনিয়মিত বাতাস আগুনকে আরো ছড়িয়ে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে এবং শহরটির পশ্চিমে আকাশ ঘন ধূসর ধোঁয়ায় ছেয়ে গেছে।

 

মাদ্রিদ আঞ্চলিক সরকারের জরুরি ব্যবস্থাপনা প্রধান কার্লোস নোভিলো বলেছেন, রাজধানীর কাছের দাবানলটি ‘এখন তার সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে এবং বর্তমানে তা নিয়ন্ত্রণে আনা দমকলকর্মীদের ক্ষমতার বাইরে।’

 

স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মাদ্রিদ অঞ্চলে আগুন প্রায় ১০ হাজার হেক্টর এবং পার্শ্ববর্তী আভিলা প্রদেশে ‘১৩ থেকে ১৫ হাজার হেক্টর’ এলাকা ধ্বংস করে দিয়েছে। এই মোট পরিমাণ ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের আয়তনের দ্বিগুণেরও বেশি।

 

শুক্রবার দুটি পৃথক দাবানল একত্রিত হয়ে একটি বিশাল অগ্নিকাণ্ডে পরিণত হয়, যা পার্শ্ববর্তী কাস্তিয়া ই লিওন অঞ্চলের আরেকটি দাবানলের সাথে মিশে যাওয়ার উপক্রম করেছিল। স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ শনিবার ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনের সময় বলেছেন, মাদ্রিদের নিকটবর্তী দাবানল পরিস্থিতি এখনো ‘জটিল’ রয়েছে।

 

তিনি বলেছেন, “তাপমাত্রা কমে গেলেও বাতাসের গতিপথ কীভাবে পরিবর্তিত হবে তা আমরা জানি না।” ফ্রান্সে, শনিবার কর্তৃপক্ষ বোর্দোর নিকটবর্তী শহরতলি থেকে হাজার হাজার মানুষকে সরিয়ে নিয়েছে। কারণ শহরটির আশেপাশের এলাকায় দাবানল প্রশমিত হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছিল না।

 

বোর্দো অঞ্চলকে অন্তর্ভুক্তকারী ‘লা নুভেল-আকুইতেন এ দে লা জিরোন্দ’-এর স্থানীয় প্রশাসনের প্রধান সোফি ব্রোকাস জানিয়েছেন, লে হাইয়াঁ, আইসিন এবং মেরিনিয়াক এলাকাগুলো খালি করা হচ্ছে।

 

বোর্দো অঞ্চলটি তার দ্রাক্ষাক্ষেত্রের জন্য বিখ্যাত এবং শহরটি আটলান্টিক উপকূলের নিকটবর্তী অবকাশযাপন কেন্দ্রগুলোতে বেড়াতে আসা পর্যটকদের জন্য অন্যতম প্রধান পরিবহন কেন্দ্র।

 

বোর্দোর দক্ষিণে অবস্থিত অভিজাত ক্যাপ ফেরেট উপদ্বীপ থেকে প্রায় ৪৪ হাজার মানুষ পালিয়ে গেছে। কারণ সেখানকার একমাত্র রাস্তাটি আগুনের শিখার কবলে পড়েছিল।

 

নৌকায় করে শত শত মানুষকে আগুন থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়, আর অন্যরা কোটিপতিদের বাসভবনের জন্য পরিচিত উপদ্বীপটি থেকে গাড়িতে করে চলে যায়। সেখানকার ৫০টিরও বেশি বাড়ি ধ্বংস হয়ে গেছে।

 

ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকোর্নু জিরোন্দের ভয়াবহ দাবানল মোকাবেলায় সহায়তার জন্য এয়ারবাস এ৪০০এম সামরিক পরিবহন বিমান মোতায়েন করতে সশস্ত্র বাহিনীকে অনুরোধ করেছেন।