বাংলাদেশের প্রতি সংস্কার ও নির্বাচনের পথচলায় চীনের সমর্থন: রাষ্ট্রদূত

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশ এখন সংস্কার ও উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্ব পার করছে এবং এই যাত্রায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি চীনের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। একইসঙ্গে তিনি একটি শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও অংশগ্রহণমূলক জাতীয় নির্বাচন প্রত্যাশা করেছেন।

মঙ্গলবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে কূটনৈতিক সংবাদদাতা অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) আয়োজিত “ডিক্যাব টক” অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

রাষ্ট্রদূত বলেন, “বাংলাদেশে কী ধরনের সরকার হবে, তা নির্ধারণের অধিকার একমাত্র এখানকার জনগণের। বাইরের কোনো দেশের হস্তক্ষেপ কাম্য নয়।”

অনুষ্ঠানের শুরুতে সাবেক ডিক্যাব সভাপতি শামিম আহমেদ এবং উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত শিশুদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

চীন-বাংলাদেশ-পাকিস্তান ত্রিপক্ষীয় সহযোগিতার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ইয়াও ওয়েন জানান, “বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়নে চীন উৎসাহিত এবং এ উদ্যোগ চীনের বৈশ্বিক বহু ত্রিপক্ষীয় উদ্যোগের একটি অংশমাত্র।”

তিনি জানান, সম্প্রতি চীনের কুনমিংয়ে ত্রিপক্ষীয় পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠক সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং চীন এই উদ্যোগে বাস্তব অগ্রগতি অর্জনের প্রত্যাশা করছে।

রাষ্ট্রদূত জানান, “বাংলাদেশে এখন রাজনৈতিক সংলাপ ও উন্নয়নের জন্য একটি সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তাই চীন সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গেই যোগাযোগ রক্ষা করছে।” তিনি বলেন, “বিএনপি, জামায়াত ও এনসিপিসহ বিভিন্ন দলকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।”

পূর্বে কিছু রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগে সীমাবদ্ধতা ছিল বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
দক্ষিণ এশিয়া ও বৈশ্বিক দক্ষিণে বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা

রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, চীন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, দারিদ্র্য হ্রাস, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় যৌথভাবে কাজ করতে চায়।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশ চীনের প্রতিবেশি কূটনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। জাতীয় সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় চীন সবসময় বাংলাদেশের পাশে আছে।”

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ত্রিপক্ষীয় এই উদ্যোগে অন্য দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোকে অবহিত করা হয়েছে, তবে তারা কী সাড়া দিয়েছে তা নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।