নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশের বাজারে ভোজ্যতেলের সরবরাহ নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, চাহিদার তুলনায় তেল সরবরাহ কম হচ্ছে, যার কারণে বাজারে সংকট এবং দাম বাড়ছে। তবে, আমদানিকারকরা অভিযোগ করেছেন যে, বিশ্ববাজারে দাম বাড়ার পাশাপাশি ডলারের অস্থিরতা, ঋণের সুদহার বৃদ্ধি এবং শীর্ষ আমদানিকারকদের নিষ্ক্রিয়তার কারণে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার জন্য সরকার ভ্যাট কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে, তবে তেলের দাম স্বাভাবিক হয়নি।
বর্তমানে দেশে ভোজ্যতেলের চাহিদা প্রায় ২২ লাখ টন, যার মধ্যে ২ লাখ টন স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হয়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২৩ লাখ টন ভোজ্যতেল আমদানি করা হয়েছে। তবে, বাজারে সরবরাহের ক্ষেত্রে যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে, তার পেছনে রয়েছে একাধিক কারণে। যদিও সরকারের উদ্যোগে আমদানির পর্যায়ে ভ্যাট কমানো হয়েছে, তবুও এর সুফল ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে না। সঠিকভাবে ভ্যাট কমানো সত্ত্বেও খোলা তেলের দাম বেড়েছে। বিশেষ করে, চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে পাম অয়েলের পাইকারি মূল্য গত তিন মাসে ৪০-৪৫ টাকা বেড়ে কেজি প্রতি ১৬৭-১৭৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খুচরা পর্যায়ে খোলা সয়াবিন তেল এখন ১৭৫-১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অন্যদিকে, বোতলজাত তেলের দামও বেড়েছে, যদিও তেলটি আগে আমদানি করা হয়েছিল এবং তখন দাম কম ছিল। আমদানিতে সমস্যা, বিশ্ববাজারে দাম বাড়ার পাশাপাশি এলসি খুলতে বাধা ও ডলারের অস্থিরতা বাজারকে আরও অস্থিতিশীল করেছে।
বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সভাপতি আবুল হাসেম জানিয়েছেন, প্রথম দফায় ভ্যাট কমানোর পর বাজারে তেমন প্রভাব পড়েনি। দ্বিতীয় দফায় কিছুটা দাম কমানো হলেও তা খুচরা পর্যায়ে খুব বেশি প্রভাব ফেলেনি। পাইকাররা তেল মিলারদের কাছে যে দামে পাওয়ার কথা, সে দাম তারা পাননি। তবে এখন কিছুটা কম দামে তেল পাওয়া যাচ্ছে।
এছাড়া, বাংলাদেশে ভোজ্যতেলের বাজারের অস্থিতিশীলতা নিয়ে ব্যবসায়ীরা নানা অজুহাত দেখাচ্ছেন, যার ফলে সাধারণ মানুষের জন্য সঠিক দাম পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।











