অনলাইন ডেস্ক:
দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে এক বিবৃতি দিয়েছে বিএনপি। দলটি সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আমাদের আহ্বান, পরিস্থিতির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করুন। অন্যথায় দেশে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির প্রসার ঘটবে।” দলটির মতে, এখন সময়ের দাবি কঠোরভাবে আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করে রাষ্ট্র ও সরকারের ভূমিকা দৃশ্যমান করা।
বৃহস্পতিবার দিবাগত মধ্যরাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এই বিবৃতিতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, তারা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে, স্বৈরাচারী সরকারের পলাতক নেতা ও তার দোসরদের উসকানিমূলক আচরণ এবং রক্তক্ষয়ী ছাত্র গণঅভ্যুত্থানের বিষয়ে অশালীন বক্তব্য জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। এরই ফলস্বরূপ, দেশের বিভিন্ন স্থানে পতিত স্বৈরাচারের স্মৃতি, মূর্তি, স্থাপনা ও নামফলক ভেঙে ফেলার জনস্পৃহা দেখা গেছে।
বিএনপি আরও জানায়, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পলাতক স্বৈরাচার ও তার সহযোগীদের আইনের আওতায় আনার ক্ষেত্রে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়েছে। জনগণ বেআইনি কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত হচ্ছে এবং নিজেদের হাতে আইন তুলে নিচ্ছে, যা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে। দলটির মতে, জনগণের প্রত্যাশা ছিল দেশে আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে, কিন্তু তা হয়নি।
বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ বিভিন্ন দাবির মধ্যে সড়কে “মব কালচারের” মাধ্যমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করছে, অথচ সরকার যথাযথ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ছাত্র গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারদের রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা, আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসন, এবং পলাতক স্বৈরাচারের বিচার দ্রুত নিশ্চিত করা উচিত।
বিএনপি দাবি করে, বর্তমানে প্রশাসন, বিচার বিভাগ ও পুলিশে ফ্যাসিবাদী দোসররা সক্রিয় রয়েছে, যা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ক্ষতি করছে। দলটি সরকারের কাছে বাজার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী জনগণের ন্যায্য দাবি পূরণের জন্য পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানায়।
এছাড়া, বিএনপি মনে করে যে, একটি নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার প্রতিষ্ঠা এখন দেশের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। তারা সরকারের প্রতি নির্বাচনমুখী জরুরি সংস্কারের আহ্বান জানায়, যাতে দ্রুত নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “পতিত ফ্যাসিস্ট এবং স্বৈরাচারের স্মৃতিচিহ্ন নিশ্চিহ্ন করা প্রয়োজন, তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ফ্যাসিবাদবিরোধী আদর্শিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা এবং জাতীয় ঐক্যের রাজনৈতিক সংস্কৃতি চর্চা করা।” বিএনপি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সক্ষম না হলে রাষ্ট্র ও সরকারের স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়তে পারে।











