‘বিক্ষিপ্ত কাজ নয়, মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন চাই’ – দুলু

অনলাইন ডেস্ক:

তিস্তা নদী রক্ষা আন্দোলন কমিটির প্রধান সমন্বয়ক এবং বিএনপির রংপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবীব দুলু বলেছেন, “তিস্তায় ভাঙন রোধে বিক্ষিপ্তভাবে জনগণের ট্যাক্সের টাকা অপচয় করা হোক, তা আমরা চাই না।” তিনি দাবি করেছেন, তিস্তা নদী রক্ষায় একটি মহাপরিকল্পনার মাধ্যমে কাজ করতে হবে, “কোনো বিক্ষিপ্ত কাজ নয়, মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে।”

শনিবার দুপুরে রংপুরের একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনে রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামু, জেলা বিএনপির সাইফুল ইসলাম, এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

দুলু বলেন, তিস্তা নদী রক্ষায় সরকারের নানা উদ্যোগ বিফলে গেছে, এবং জনগণের অর্থ অপচয় না করে তিস্তা মহাপরিকল্পনা অবিলম্বে বাস্তবায়ন করতে হবে। তিনি আরও জানান, ১৭ ও ১৮ ফেব্রুয়ারি তিস্তা পাড়ে সমাবেশসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হবে। এই কর্মসূচিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উপস্থিত থাকবেন, এবং ভার্চ্যুয়ালি যোগ দেবেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

দুলু সরকারের পররাষ্ট্রনীতির সমালোচনা করে বলেন, “ভারতের কাছে তিস্তার পানি নয়, ক্ষমতা চেয়েছেন পতিত শেখ হাসিনা।” তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রংপুর অঞ্চলের মানুষের তিস্তা নদী নিয়ে যাওয়া দাবি উপেক্ষিত হয়েছে।

তিনি তিস্তা নদী রক্ষায় একটি মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি তুলে বলেন, ২০১৬ সালে চীন এই প্রকল্পের জন্য অর্থায়ন করতে চেয়েছিল, যার আওতায় স্যাটেলাইট শহর, হাউজিং, ইকোনোমিক্যাল জোন এবং পর্যটন এলাকা নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল। তবে ভারতের আপত্তির কারণে এটি বাস্তবায়ন হয়নি।

দুলু আরও বলেন, “তিস্তা নদী একসময় সুখ-সমৃদ্ধির উৎস ছিল, কিন্তু এখন এটি উত্তরাঞ্চলের দুঃখের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।” তিনি বলেন, “তিস্তা নদী ও তার অববাহিকার মানুষদের রক্ষা এবং পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে আমাদের আন্দোলন চলবে।”

এদিন কর্মসূচি চলাকালে তিস্তাপাড়ের মানুষের জীবনকাহিনী তুলে ধরা হবে, যা নাটক এবং সংগীতের মাধ্যমে করা হবে। কর্মসূচি একই সময়ে পাঁচ জেলার ১১ পয়েন্টে পালন করা হবে, যার মধ্যে তিস্তা নদীর কাউনিয়া সেতু, মহিপুর সেতু এবং তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টও থাকবে।