নিজস্ব প্রতিবেদক:
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, “আনুপাতিক পদ্ধতি বা পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন করার সাংবিধানিক কোনো সুযোগ নেই। সংবিধানের বাইরে যাওয়ার এখতিয়ার আমাদের নেই। যদি আইন পরিবর্তন হয়, তখনই কেবল এই পদ্ধতিতে নির্বাচন সম্ভব।”
শনিবার সকাল ১০টায় রাজশাহীর আঞ্চলিক লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে নির্বাচন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বক্তব্যকালে তিনি এ কথা বলেন।
সিইসি আরও বলেন, “নির্বাচন হবে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্যে আমরা যাচ্ছি না। আমরা প্রধান উপদেষ্টার দিকনির্দেশনায় নির্বাচন কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছি। চিঠি পাওয়ার পর থেকেই নির্বাচন প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। রমজানের আগেই, আগামী ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্য নিয়ে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
সেনাবাহিনীর ভূমিকা সম্পর্কে তিনি বলেন, “সেনাবাহিনীকে স্ট্রাইকিং ফোর্স না বানিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক বা পুলিশ সুপারদের পুনঃপদায়নের বিষয়ে কোনো পরিকল্পনা নেই।”
তিনি জানান, নির্বাচন কমিশনের অধীনে থাকা ৫৭০০ কর্মকর্তার মধ্যে যারা আগেও দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদেরই কাজে লাগানো হবে। তবে যারা বিগত নির্বাচনে স্বপ্রণোদিত হয়ে অনিয়ম করেছেন, তাদেরকে বাদ দেওয়া হবে।
সরকারের পক্ষ থেকে কোনো চাপ আছে কিনা জানতে চাইলে সিইসি বলেন, “এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো চাপ পাইনি। যদি চাপ আসে, আমি পদত্যাগ করব, দায়িত্বে থাকব না।”
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগের বিচার প্রক্রিয়া চলছে। বিচারাধীন অবস্থায় তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে না। দেখা যাক আদালতের রায় কী আসে।”
ভোটকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন হবে উল্লেখ করে সিইসি বলেন, “ব্যালট বাক্স দখলের স্বপ্ন যারা দেখছেন, তাদের স্বপ্ন ভেঙে যাবে। ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা করলে পুরো কেন্দ্রের ভোট বাতিল করা হবে। অস্ত্র দেখিয়ে ভোটে জেতার চেষ্টা করা হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সভা শেষে তিনি নির্বাচন কর্মকর্তাদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন এবং নৈতিকতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে কাজ করার আহ্বান জানান।











