অনলাইন ডেস্ক:
চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে আগামী সপ্তাহে অনুষ্ঠিতব্য দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের বিজয় দিবস কুচকাওয়াজে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে অংশ নিতে যাচ্ছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। খবর বিবিসি ও এএফপি’র।
চীন-জাপান যুদ্ধের ৮০তম বার্ষিকী ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি উপলক্ষে আয়োজিত এ কুচকাওয়াজে উপস্থিত থাকবেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ ২৬টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান। চীনের সর্বাধুনিক সামরিক শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে তিয়ানআনমেন স্কোয়ারে ৭০ মিনিটব্যাপী জমকালো কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হবে, যা সরাসরি পরিদর্শন করবেন প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে তাদের ‘ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্ব’ অটুট রয়েছে এবং দুই দেশ আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় একযোগে কাজ করে যাবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কিম জং উনের উপস্থিতি শুধুই প্রতীকী নয়, বরং এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে নতুন কৌশলগত মেরুকরণের ইঙ্গিত বহন করে। এই সফর কিমের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি ছয় বছর পর তাঁর প্রথম বেইজিং সফর। তিনি সর্বশেষ ২০১৯ সালে চীন সফর করেছিলেন।
এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট লি জে মিউং এখনো আমন্ত্রণ গ্রহণ করেননি। তিনি অংশ নিলে এটি হবে বহু বছর পর উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়ার নেতাদের প্রথম মুখোমুখি সাক্ষাৎ। তবে কুচকাওয়াজে রাশিয়া, ইরান ও বেলারুশের মতো দেশগুলোর অংশগ্রহণ তাঁর সিদ্ধান্তকে কূটনৈতিকভাবে জটিল করে তুলতে পারে।
চীনের এই কুচকাওয়াজ শুধু সামরিক মহড়া নয়— এটি শি জিনপিংয়ের জন্য কূটনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের আন্তর্জাতিক মঞ্চ। পশ্চিমা বিশ্বের নেতারা এই অনুষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকলেও, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মতো মিত্রদের একত্রিত করে চীন বৈশ্বিক রাজনীতিতে একটি বিকল্প বলয় তৈরির ইঙ্গিত দিচ্ছে।










