নিজস্ব প্রতিবেদক:
ভারত থেকে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে এক সপ্তাহে ১,০৩০ মেট্রিক টন চাল আমদানি করা হয়েছে। এ চাল আমদানির ফলে বাংলাদেশের চালের বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা আসবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।
বেনাপোল কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, ১৮ নভেম্বর থেকে ২৭ নভেম্বর রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত মোট ৩৩টি ট্রাকে ভারত থেকে ১,০৩০ মেট্রিক টন চাল আমদানি করা হয়। এর মধ্যে, বুধবার (২৭ নভেম্বর) রাতে ১০৫ মেট্রিক টন স্বর্ণা মোটা চালের একটি চালান বেনাপোল বন্দরের ৩১ নম্বর ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ডে প্রবেশ করে এবং কাস্টমস থেকে শুল্কায়ন শেষে ২৮ নভেম্বর সকালে খালাস দেওয়া হয়।
শুল্কায়ন পরবর্তী চালের চালানগুলো দ্রুত খালাসের জন্য বেনাপোল বন্দরের কর্মকর্তারা কাজ করে যাচ্ছেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে ভারত থেকে মোটা চাল আমদানি করা হচ্ছে, যাতে দেশের বাজারে চালের দাম স্থিতিশীল থাকে। এছাড়াও, বিনা শুল্কে সেদ্ধ ও আতপ চাল আমদানির জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে এবং এসব চাল আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে আমদানি করতে হবে।
অর্ক ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী মফিজুর রহমান জানান, “আমরা দুই হাজার মেট্রিক টন আতপ চাল এবং তিন হাজার মেট্রিক টন সেদ্ধ চাল আমদানির অনুমোদন পেয়েছি। এর মধ্যে ১০৫ মেট্রিক টন সেদ্ধ স্বর্ণা চাল ইতোমধ্যে আমদানি করা হয়েছে, যার পরিবহনসহ প্রতিকেজি খরচ পড়েছে ৫৩ টাকা।”
এদিকে, শার্শার চৌধুরী অটো রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী রাশেদ চৌধুরী বলেন, “আজ (২৮ নভেম্বর) হাইব্রিড মোটা চাল ৪৬ টাকা এবং স্বর্ণা মোটা চাল ৪৮ টাকা কেজি দরে পাইকারিতে বিক্রি হয়েছে। নতুন আমন ধানের চাল বাজারে আসতে শুরু করেছে, যার ফলে চালের দাম কমে যাবে। তবে অতিবৃষ্টির কারণে এবারের চালের উৎপাদন কিছুটা কমেছে, ফলে আমদানির প্রভাব বাজারে থাকবে।”
বেনাপোল চেকপোস্ট উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপ-সহকারী কর্মকর্তা শ্যামল কুমার নাথ জানান, “এই সপ্তাহে বেনাপোল বন্দরের মাধ্যমে ৩৩টি ট্রাকে ১,০৩০ মেট্রিক টন চাল আমদানি হয়েছে। আরও চালের চালান বন্দরে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে। যদি এই ধরনের আমদানি অব্যাহত থাকে, তবে বাজারে চালের দাম আরও কমতে পারে।”
বেনাপোল বন্দরের উপপরিচালক সজিব নাজিব জানান, “বুধবার রাতে ভারত থেকে ১০৫ টন চালের একটি চালান বেনাপোল বন্দরে এসেছে এবং কাস্টমস শুল্কায়ন পরবর্তী ২৮ নভেম্বর সকালে খালাস করা হয়েছে।”










