মঙ্গল থেকে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখকে ঘিরে বাংলাদেশে গত কয়েক বছরে বড় ধরনের প্রশাসনিক ও আইনি বাঁক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। ১৯৮৬ সালে যশোরের ‘চারুপীঠ’ থেকে শুরু হওয়া এই উৎসবটি ১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ জাতীয় পর্যায়ে নিয়ে আসে। তৎকালীন সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক প্রতিবাদ হিসেবে শুরু হওয়া এই আয়োজনটি ২০১৬ সালে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পেলেও সাম্প্রতিক সময়ে এটি তীব্র বিতর্কের মুখে পড়েছে।

২০২৫ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এর নাম পরিবর্তন করে আদি নাম ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’য় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তবে ২০২৬ সালে নবগঠিত সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এর নাম চূড়ান্তভাবে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ করার ঘোষণা দেন। তার মতে, বিভাজন এড়াতে এবং বৈচিত্র্যের মাঝে ঐক্য বজায় রাখতেই এই নিরপেক্ষ নামকরণ।

অন্যদিকে, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মাহমুদুল হাসানের দায়ের করা রিট আবেদনটি এই উৎসবের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলেছে। ধর্মীয় অনুভূতির আঘাত এবং ‘মঙ্গল’ শব্দের সংস্কৃত ও হিন্দুধর্মীয় সংযোগের যুক্তিতে তিনি এই মিছিলটি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছেন। আইনি লড়াই এবং নামকরণের এই টানাপোড়েনের মাঝেই আগামীকাল দেশজুড়ে উদযাপিত হতে যাচ্ছে নতুন নামের এই ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’।