মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় বিশ্ববাজারে তেলের দাম পাঁচ মাসের শীর্ষে

অনলাইন ডেস্ক:

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম পাঁচ মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। শুক্রবার সকালে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ১ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১১৪ দশমিক ৭২ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা গত মে মাসের পর সর্বোচ্চ। ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার সম্ভাবনা এবং এর প্রতিক্রিয়ায় তেহরানের পাল্টা হুঁশিয়ারি বিশ্ববাজারে এই অস্থিরতা তৈরি করেছে।

তেহরান জানিয়েছে, তাদের ওপর কোনো হামলা হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল স্থাপনা, সাবমেরিন ক্যাবল, ডেটা সেন্টার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অবকাঠামোয় পাল্টা আঘাত করা হবে। এই হুমকির পরপরই বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়তে শুরু করে। ইন্টারঅ্যাকটিভ ইনভেস্টরের রিচার্ড হান্টার জানান, মার্কিন নির্বাচনের পর কূটনৈতিক সমাধানের পরিবর্তে সামরিক সংঘাতের পথ বেছে নেওয়ার গুঞ্জন তেলের বাজারকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে। উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর আগে তেলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭২ ডলার, যা এপ্রিলের শেষ নাগাদ ১২৬ ডলারে উঠেছিল।

চলতি সপ্তাহে অঞ্চলটিতে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। বুধবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালিতে চারটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার দাবি করেছে। একই সঙ্গে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলার মুখে থাকা সৌদি আরব থেকে মার্কিন সরকারি কর্মচারীদের পরিবার ও কূটনীতিকদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর।

ওয়েলথ ক্লাবের প্রধান বিনিয়োগ কৌশলবিদ সুসানা স্ট্রিটার বলেন, ৩ নভেম্বরের মার্কিন নির্বাচনের পর ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা চালানোর নির্দেশ আসতে পারে—এমন আশঙ্কা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে, কারণ সেখানে নিয়মিত ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটছে এবং সৌদি আরবে হুথি বিদ্রোহীদের আক্রমণও আগের চেয়ে তীব্র হয়েছে।