অনলাইন ডেস্ক:
দেশের শোবিজ অঙ্গনের জনপ্রিয় মুখ সাফা কবির, মুমতাহিনা চৌধুরী টয়া, তানজিন তিশা এবং সংগীত শিল্পী সুনিধি নায়েক মাদক কেনার সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। তাদের মাদক সংক্রান্ত সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে গ্রেপ্তার হওয়া এক শিক্ষার্থীর ফোনে। গত ১৭ অক্টোবর ঢাকা বিমানবন্দর থেকে মাদক সংক্রান্ত অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয় নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী অরিন্দম রায় দীপকে। দীপের মোবাইল ফোনে পাওয়া যায় একাধিক জনপ্রিয় তারকার নামসহ মাদক অর্ডারের চ্যাট রেকর্ড।
নাট্যাঙ্গন ও সংগীত অঙ্গনের শীর্ষ অভিনেত্রী এবং শিল্পীদের নাম পাওয়া গেছে দীপের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে, যেখানে নিয়মিত মাদক অর্ডার দেওয়া হয়। নারকোটিক্স নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (এনসিএ) এই বিষয়ে বিশেষ অনুসন্ধান চালাচ্ছে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত দীপের মোবাইল ফোনে তার মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত একাধিক তারকার ফোন নম্বর ও হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটিং পাওয়া যায়। তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, সাফা কবির, মুমতাহিনা চৌধুরী টয়া, তানজিন তিশা এবং সুনিধি নায়েকের ফোন নম্বর উদ্ধার করা হয়েছে, যা মাদক অর্ডার দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়েছিল।
এ বিষয়ে তদন্তে জানা গেছে, সাফা কবির ২৩ এপ্রিল ৩টি এমডিএমএ অর্ডার দেওয়ার জন্য দীপের কাছে বার্তা পাঠান। সেই সময়ে সাফা কবির একটি সাংকেতিক ভাষায় “ই দিতে পারবা আমাকে ৩টা” লিখেছিলেন এবং দীপও একে গ্রহণ করেন। আর ৫ সেপ্টেম্বর, টয়া তার মাদক অর্ডার দিয়েছিলেন, যেখানে তিনি “ই লাগবে ৫টা” বলে লেখেন।
এছাড়া, সুনিধি নায়েক এবং তানজিন তিশার সঙ্গে সম্পর্কিত চ্যাটেও মাদক অর্ডারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। সুনিধি নায়েক বিভিন্ন এমডিএমএ ব্র্যান্ডের প্যাকেট শেয়ার করে মাদক অর্ডার দেন, এবং তানজিন তিশা তার নিজস্ব সাংকেতিক ভাষায় মাদক অর্ডার করেছিলেন।
এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে তদন্ত চলছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। নারকোটিক্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মাদক কেনাবেচার জন্য একাধিক সাংকেতিক কোড ব্যবহার করা হতো, যেমন “এমডিএম” (এক ধরনের মাদক), “এলএসডি অ্যাসিড” এবং “টিএসসি” (তরল গাঁজা)।
নিরাপত্তা ও গোপনীয়তার জন্য এসব মাদক তারকা ও শিল্পীরা সাংকেতিক ভাষায় অর্ডার করতেন, যা কঠোর তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে এসেছে।
নারকোটিক্স কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, দীপ গ্রেপ্তারের পর কেউ কেউ তাদের মোবাইল ফোন থেকে গোপন চ্যাটিং রেকর্ড মুছে ফেলতে চেষ্টা করেন, তবে তা সম্ভব হয়নি কারণ দীপের ফোনের ইন্টারনেট সংযোগ দ্রুত বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়।
তদন্তকারীরা বলছেন, এই ঘটনায় আরও অনেক তথ্য উঠে আসবে, এবং ভবিষ্যতে আরও অনেক শোবিজ তারকার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।










