অনলাইন ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে এক বড় রাজনৈতিক পালাবদলের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে মার্কিন সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টি। চার্টার্ড বা চারটি আসন সফলভাবে পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে সিনেটে নিজেদের নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করেছে ডেমোক্র্যাটরা, অথচ গত বছরও দলটির এমন বিজয় অর্জনের সম্ভাবনাকে প্রায় অসম্ভব বলেই মনে করা হচ্ছিল।
এই অপ্রত্যাশিত জয়ের সুবাদে আগামী ২০২৭ সালে সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা হিসেবে আবারও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ফেরার সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমারের সামনে। একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের সার্বিক কর্মকাণ্ডের ওপর কঠোর নজরদারি চালানো, প্রশাসনিক ও বিচার বিভাগীয় গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং যেকোনো নতুন আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থান বা ক্ষমতা অর্জন করতে যাচ্ছে দলটি।
সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে ফিরে পেতে ডেমোক্র্যাটদের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনায় অন্তত চারটি আসন বাড়ানোর কঠোর প্রয়োজন ছিল। আর নির্বাচনের দিন নর্থ ক্যারোলাইনা, সাউথ ক্যারোলাইনা, টেক্সাস এবং ওহাইও অঙ্গরাজ্যে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ রিপাবলিকানদের চরমভাবে হারিয়ে তারা সেই কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য শতভাগ সফলভাবে পূরণ করেছে।
নির্বাচনী লড়াইয়ের অংশ হিসেবে নর্থ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যে সাবেক গভর্নর রয় কুপার সরাসরি পরাজিত করেন রিপাবলিকান প্রার্থী মাইকেল হোয়াটলিকে। অন্যদিকে সাউথ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যে বিশিষ্ট শিশু চিকিৎসক অ্যানি অ্যান্ড্রুজ লড়াইয়ে হারিয়ে দেন রিপাবলিকান প্রার্থী ডারলিন গ্রাহামকে। এছাড়া টেক্সাসে অঙ্গরাজ্যের সম্মানিত প্রতিনিধি জেমস টালারিকো পরাস্ত করেন প্রভাবশালী অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনকে এবং ওহাইওতে সাবেক সিনেটর শেরড ব্রাউন বিজয়ের হাসি হাসেন।
বিশ্লেষকেরা এই সার্বিক নির্বাচনী ফলাফলকে বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য একটি সরাসরি রাজনৈতিক প্রত্যাখ্যান হিসেবেই দেখছেন। কারণ, পুরো অক্টোবর মাসজুড়ে নির্বাচনী প্রচারণার মাঠ গরম রাখতে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে অত্যন্ত ব্যাপক ও সরব প্রচারণা চালিয়েছিলেন তিনি স্বয়ং। তবে সাধারণ মানুষের মাঝে তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা হ্রাসের বিষয়টিই শেষ পর্যন্ত রিপাবলিকান প্রার্থীদের জয়ের পথে সবচেয়ে বড় এবং দুর্লঙ্ঘ্য বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।











