রক্ত ঝরলেও দেশের সীমান্ত সুরক্ষিত থাকবে : স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, রক্ত ঝরলেও দেশের সীমান্ত সুরক্ষিত থাকবে। রবিবার তেজগাঁওয়ের ভূমি ভবনে বিসিএস ক্যাডার ও জুডিসিয়াল সার্ভিস কর্মকর্তাদের সার্ভে ও সেটেলমেন্ট প্রশিক্ষণের সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি জানান, সীমান্তের নিরাপত্তা জোরদার করতে সরকার ইতোমধ্যেই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ‘সীমান্ত সুরক্ষিত আছে এবং সুরক্ষিত থাকবে। আমাদের পাশে এখন জনগণ আছে, যা আগে ছিল না। সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আগে ছিল না, তাই সমস্যা সামনে এসেছে,’ বলেন তিনি।

জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী আরও বলেন, ‘বর্ডারে ঝামেলা হচ্ছে, তবে বিজিবি সবসময় সতর্ক রয়েছে এবং সীমান্ত সম্পূর্ণরূপে সুরক্ষিত।’ তিনি বলেন, ‘রক্ত ঝরবে, তবে সীমান্ত সুরক্ষিত থাকবে। ওপারের কেউ এই সীমান্তে আসতে পারবে না।’

এ সময় উপদেষ্টা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেন, যদি কেউ সুযোগ-সুবিধা নিতে চায়, তবে তাকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দিতে হবে। তিনি সিভিল সার্ভিস কর্মীদের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং সেবাদানে আগ্রহী হওয়ার আহ্বান জানান।

দুর্নীতিকে বাংলাদেশের একটি প্রধান সমস্যা আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, ‘যতদিন পর্যন্ত দুর্নীতি কমবে না, ততদিন দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে হামলা ও উদ্ভূত পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঘটনা জমির ধান ও গাছকাটা কেন্দ্র করে শুরু হয়েছিল। এতে দুপক্ষের লোকজন আহত হয়েছেন, তবে গুরুতর কিছু ঘটেনি।’ তিনি জানান, বিজিবি ও বিএসএফের আলোচনায় সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে।

এর আগে, শনিবার (১৮ জানুয়ারি) শিবগঞ্জ উপজেলার কালিগঞ্জ সীমান্তে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, যেখানে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সরেজমিনে দেখা যায়, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সামনেই বাংলাদেশিদের লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করা হয় এবং ওপার থেকে টিয়ারশেলও ছোঁড়া হয়। এ সময় বিজিবি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়।

স্থানীয় বাংলাদেশিরা অভিযোগ করেন, সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে ঢুকে পড়ে ৫ শতাধিক ভারতীয় নাগরিক ও বিএসএফ সদস্য। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়রা সীমান্তে জড়ো হতে থাকেন, যা উত্তেজনা সৃষ্টি করে।