নিজস্ব প্রতিবেদক:
আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী হিসেবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে জোটের নেতারা প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের নির্বাচনী কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় জোটের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনে যায়। সঙ্গে ছিলেন ১১ দলীয় ঐক্যের শরিক দলগুলোর কয়েকজন নেতা ও সংসদ সদস্য।
বিভিন্ন সূত্রে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় বেলা ১১টা ৪৯ মিনিট থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে বলা হয়েছে। একটি সূত্রে নির্দিষ্ট করে বেলা ১১টা ৪৯ মিনিটের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। মনোনয়নপত্র গ্রহণের সময় সিইসির সঙ্গে নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদও উপস্থিত ছিলেন।
অলি আহমদের মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক হিসেবে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানের নাম রয়েছে। সমর্থক হিসেবে এনসিপির সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল আমিনের স্বাক্ষরের কথা একাধিক সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে একটি সূত্রে আব্দুল্লাহ আল আমিনকে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় ১১ দলীয় ঐক্যজোটের বিভিন্ন দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিনিধিদলে ড. হামিদুর রহমান আযাদ ছাড়াও মোহাম্মদ কামাল হোসেন, আব্দুল বাতেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান ও মোস্তফিজুর রহমান ইরানসহ জোটের বিভিন্ন দলের নেতাদের উপস্থিত থাকার কথা জানানো হয়েছে।
এর আগে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের বৈঠকে অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই বৃহস্পতিবার তাঁর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া হলো। এর মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জোটটির প্রার্থিতার বিষয়টি আনুষ্ঠানিক রূপ পেল।
অলি আহমদ এলডিপির চেয়ারম্যান। তিনি সাবেক মন্ত্রী এবং মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য ‘বীর বিক্রম’ খেতাবপ্রাপ্ত।
নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেল ৪টা। সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত নির্বাচন ভবনে নির্বাচনী কর্তার দপ্তরে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
মনোনয়নপত্র বাছাই হবে রোববার (১৬ আগস্ট)। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট)। একাধিক প্রার্থী থাকলে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ হবে। ভোট হবে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার জাতীয় সংসদের সদস্যরা। চট্টগ্রাম-৪ আসন শূন্য থাকায় মোট ভোটার সংখ্যা ৩৪৯ জন বলে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী, একজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্রে একজন সংসদ সদস্যকে প্রস্তাবক এবং আরেকজনকে সমর্থক হতে হয়। প্রার্থীর নিজেরও সম্মতিসূচক স্বাক্ষর থাকতে হয়। প্রার্থী একজন হলে তাঁকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে। একাধিক প্রার্থী থাকলে সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোট হবে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ‘নির্বাচনী কর্তা’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর কার্যালয়েই মনোনয়নপত্র জমা ও যাচাই-বাছাইয়ের কার্যক্রম হবে। ভোটগ্রহণের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষ।
সংসদীয় গণতন্ত্র চালুর পর ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী থাকায় ভোট হয়েছিল। এরপরের নির্বাচনগুলোতে ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। এবারের নির্বাচনে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী হিসেবে অলি আহমদের মনোনয়নপত্র জমা পড়ায় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
এর আগে বিএনপির পক্ষ থেকেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহের তথ্য এসেছে। ফলে মনোনয়নপত্র জমা ও যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্তভাবে কতজন প্রার্থী থাকছেন, সেদিকেই এখন নজর থাকবে।











