রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেননি ৬ এমপি, জানালেন কেন

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সদস্য ভোটার থাকলেও ভোট দিয়েছেন ৩৪৩ জন। ফলে ছয়জন সংসদ সদস্য ভোটদানে অংশ নেননি। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ২টা ১০ মিনিটে জাতীয় সংসদে ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলে।

 

ভোট না দেওয়া ছয় সংসদ সদস্যের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির মির্জা আব্বাস ও মোস্তফা কামাল পাশা, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা, জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত গাজী নজরুল ইসলাম এবং খেলাফত মজলিসের মুফতি আবুল হাসান। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিএনপির আরেক সংসদ সদস্য ওসমান ফারুকের নামও ভোট না দেওয়া সদস্যদের তালিকায় এসেছে।

 

তবে সূত্রগুলোতে ছয়জনের পরিচয় ও কারণ নিয়ে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। এক সূত্রে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহর ভোট না দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পরে তিনি ভোট দিয়েছেন বলেও তথ্য এসেছে। তাই তাঁর নামকে চূড়ান্ত ছয়জনের তালিকায় রাখা হয়নি।

 

ভোট না দেওয়ার কারণও সবার ক্ষেত্রে এক নয়। বিএনপির মির্জা আব্বাস ও মোস্তফা কামাল পাশা অসুস্থ হয়ে চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে থাকায় ভোট দিতে পারেননি বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। খেলাফত মজলিসের মুফতি আবুল হাসানও বিদেশে অবস্থান করায় ভোট দিতে পারেননি বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব আহমদ আব্দুল কাদের।

 

জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামও ভোট দিতে আসেননি। নৈতিক স্খলনের অভিযোগে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এরপর থেকে তাঁকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

ভোট না দেওয়ার বিষয়ে সবচেয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। প্রথম আলোকে তিনি বলেছেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন তাঁর কাছে “অর্থহীন” ও “প্রহসনের” মনে হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, নির্বাচনে ফলাফল নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা না থাকলে সেটিকে প্রকৃত নির্বাচন বলা যায় না।

 

রুমিন ফারহানা বলেন, “আমার কাছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে অর্থহীন মনে হয়েছে। কারণ, ভোটে অনিশ্চয়তা না থাকলে সেটা কোনো নির্বাচন নয়। এই ভোটের ফলাফল কী, তা সবার জানা। তাহলে এটাকে ভোট কেন বলব। সুতরাং এটা মনোনয়ন, নির্বাচন নয়।”

 

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের বাইরে একজন অরাজনৈতিক ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে মনোনয়ন না দেওয়াকেও ভোট না দেওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়েও আপত্তি জানান এই স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য।

 

রুমিন ফারহানার অভিযোগ, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিলে সংসদ সদস্য পদ হারানোর বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে। তিনি বলেন, “এ রকম প্রহসনের ভোট আমি কেন দেব?”

 

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে নির্বাচিত সংসদ সদস্য দল থেকে পদত্যাগ করলে তাঁর সংসদ সদস্য পদ শূন্য হবে। নিজ দলের বিপক্ষে ভোট দিলেও একই বিধান প্রযোজ্য।

 

এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটার ছিলেন জাতীয় সংসদের ৩৪৯ সদস্য। চট্টগ্রাম-৬ আসনের ফল প্রকাশ আদালতের আদেশে স্থগিত থাকায় এবং ওই আসনের বিএনপি প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় ভোটার সংখ্যা ৩৪৯ হয়েছে বলে দেওয়া তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ভোটে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। দুই প্রার্থীর পাওয়া ভোটের যোগফল ৩৪৩, যা ভোট দেওয়া সংসদ সদস্যের সংখ্যার সঙ্গে মিলে যায়।

 

ভোটগ্রহণ শেষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন ফল ঘোষণা করেন। দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। সংসদ সদস্যদের ভোটদানে সহায়তা করতে নির্বাচন কমিশনের ২০ জন কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করেন। তিনটি স্বচ্ছ বাক্সে সাদা-কালো ছাপানো ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেন সংসদ সদস্যরা।