নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদে ফল ঘোষণার পর নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কোলাকুলি করে শুভেচ্ছা জানান তিনি।
এর আগে জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত এই ভোটে ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য ভোটার ছিলেন। ভোট দেন ৩৪৩ জন।
ফল ঘোষণার পর সংসদে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়। সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা করতালি ও টেবিল চাপড়ে মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানান। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান ফুল দিয়ে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শুভেচ্ছা জানান।
এরপর বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে বিরোধীদলের সিনিয়র নেতারা মির্জা ফখরুলের কাছে এগিয়ে যান। এ সময় নিজের আসন থেকে উঠে সামনে এসে শফিকুর রহমানের সঙ্গে কোলাকুলি করেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি। পরে বিরোধীদলের উপনেতাসহ অন্য নেতারাও তাঁকে শুভেচ্ছা জানান।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও নিজের আসন ছেড়ে সংসদ কক্ষের মাঝখানে যান। সেখানে মির্জা ফখরুলের সঙ্গে কোলাকুলি করে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি। পরে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের সঙ্গেও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানান ডা. শফিকুর রহমান। তিনি লেখেন, “আজ ২০ আগস্ট ২০২৬ বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। এই নির্বাচনে জনাব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় আমি তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন জ্ঞাপন করছি।”
শফিকুর রহমান আরও বলেন, রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে আগামী দিনগুলোতে মির্জা ফখরুল ইনসাফ প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্র সমুন্নত রাখা এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তাঁর সর্বোচ্চ যোগ্যতা ও প্রজ্ঞা কাজে লাগাবেন বলে তিনি আশাবাদী।
অভিনন্দন বার্তার শেষে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন জামায়াতের আমির।
তবে সরবরাহ করা তথ্যের দুটি অংশে মির্জা ফখরুলের ভোটসংখ্যা নিয়ে গরমিল রয়েছে। একটি অংশে তাঁকে ২৮৮ ভোট পাওয়ার কথা বলা হয়েছে, অন্য অংশে বলা হয়েছে তিনি ২৫৫ ভোট পেয়েছেন এবং অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট। ৩৪৩টি বৈধ ভোটের হিসাবে ২৫৫ ও ৮৮ যোগ করলে মোট ৩৪৩ হয়। তাই প্রতিবেদনে ভোটসংখ্যা নিশ্চিতভাবে উল্লেখ না করে ফলাফল ও অভিনন্দনের বিষয়টিকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন নিয়ে প্রকাশিত আগের তথ্যেও ৩৪৯ জন সংসদ সদস্যকে ভোটার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।











