রিজার্ভ চুরি হওয়া অর্থের ৮০ শতাংশ ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে: গভর্নর

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, রিজার্ভ চুরির ঘটনায় চুরি হওয়া অর্থের ৮০ শতাংশ ইতোমধ্যে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। বাকি অর্থ ফেরাতে মামলা চলছে এবং এ বিষয়ে বিদেশি সহযোগিতা ও আন্তর্জাতিক আইনজীবী নিয়োগের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

তিনি জানান, সুশাসন প্রতিষ্ঠার ফলে দেশে টাকা পাচারের হার অনেকটাই কমেছে। তবে চট্টগ্রামের একটি প্রতিষ্ঠান প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার পাচার করেছে, যা উদ্ধারের জন্য পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনসহ (এফবিআই) বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার সঙ্গে আলোচনা চলছে।

রেমিট্যান্স প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স আনতে আড়াই শতাংশ প্রণোদনার কারণে সরকারের ৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হলেও এতে রেমিট্যান্স প্রবাহ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। গত পাঁচ মাসে রেমিট্যান্স বৃদ্ধি পেয়েছে ৩০০ কোটি ডলার এবং রপ্তানি আয় বেড়েছে ২৫০ কোটি ডলার। প্রশিক্ষিত কর্মী বিদেশে পাঠানোর উদ্যোগ নিলে রেমিট্যান্সের পরিমাণ বছরে ৬০০ কোটি ডলারে উন্নীত করা সম্ভব।

তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, রেমিট্যান্সের শীর্ষ স্থানটি সৌদি আরব থেকে সরিয়ে দুবাই দখল করেছে। এতে দুবাইয়ের কিছু প্রতিষ্ঠান মুদ্রা বিনিময় হারে কারসাজি করছে। সৌদি আরব থেকে অর্থ প্রথমে দুবাইয়ে গিয়ে সেখান থেকে বাংলাদেশে আসছে, যা নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হচ্ছে।

রিজার্ভ পরিস্থিতি সম্পর্কে গভর্নর জানান, এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) বিল পরিশোধের পর দেশের বৈদেশিক মুদ্রার গ্রস রিজার্ভ ২ হাজার ৪৯০ কোটি ডলারে নেমে এসেছে। বিপিএম-৬ মান অনুযায়ী রিজার্ভ এখন ২ হাজার কোটি ডলার। তবে চার মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর জন্য পর্যাপ্ত রিজার্ভ থাকায় এই মুহূর্তে ভয়ের কিছু নেই বলে আশ্বস্ত করেছেন তিনি।