অনলাইন ডেস্ক:
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ হামলায় একজন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। নিহত ব্যক্তি পাকিস্তানি নাগরিক। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিমানবন্দরের একটি যাত্রী টার্মিনালে অজ্ঞাত একটি প্রক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে আগুন ধরে যায়। সৌদি সামরিক জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি জানান, সোমবার রাতে বিমানবন্দরের কাছে একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। একই সময়ে বিমানবন্দরের চার নম্বর যাত্রী টার্মিনালে আঘাত হানা একটি অজ্ঞাত প্রক্ষেপণের কারণে সৃষ্ট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এর আগের দিন একই বিমানবন্দরে হামলায় ১৩ জন নিহত ও ৩০৮ জন আহত হয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই ঘটনায় নিহতদের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক, দুজন বাংলাদেশি এবং যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, ফিলিস্তিন, সিরিয়া, সুদান ও মিসরের একজন করে নাগরিক ছিলেন। পরে আহত অবস্থায় এক ভারতীয় নাগরিকের মৃত্যুর খবরও জানিয়েছে দেশটির দূতাবাস। হামলার দায় স্বীকার করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। তাদের দাবি, গত ২৪ ঘণ্টায় তারা ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোন ব্যবহার করে সৌদি আরবের বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। এ ছাড়া দেশটির পূর্বাঞ্চলের তেল স্থাপনা ও দাম্মাম বিমানবন্দরেও হামলার দাবি করেছে গোষ্ঠীটি। হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি সৌদি আরবের অভ্যন্তরে আরও হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। মক্কা ও মদিনার বিমানবন্দর ছাড়া সৌদি আরবের অন্য সব বিমানবন্দরকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করেছে গোষ্ঠীটি। বিমান সংস্থা ও যাত্রীদের সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও আকাশসীমা ব্যবহার না করার সতর্কবার্তাও দিয়েছে তারা। ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সৌদি আরবের সরকারি বাহিনীকে সমর্থন এবং সানার বিমানবন্দরে হামলার প্রতিশোধ হিসেবে এসব হামলা চালানো হচ্ছে বলে দাবি হুতিদের। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, হুতিদের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালানো হবে কি না, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সিদ্ধান্ত নেবে এবং দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পারে। যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংও সৌদি আরবকে আরও সহায়তা দেওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন। সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে ধারাবাহিক হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ছে। ২০২২ সালে হুতি ও সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর মধ্যে যে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি হয়েছিল, তা গত জুলাইয়ে ভেঙে পড়ে। এরপর থেকে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে।










