নিজস্ব প্রতিবেদক:
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় দুই বাংলাদেশিসহ ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৩০৯ জন। হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে সংঘাত বন্ধ, বেসামরিক নাগরিক ও অবকাঠামোর সুরক্ষা এবং সংলাপের মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। নিহত ও আহত বাংলাদেশিদের পরিচয় ও বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা নিশ্চিত করতে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে রিয়াদে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশন।
রোববার (১১ অক্টোবর) বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এ নিন্দা জানানো হয়। বিবৃতিতে ১০ অক্টোবরের হামলায় প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, হামলায় বহু মানুষ আহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
নিহত বাংলাদেশিদের পরিবারসহ ক্ষতিগ্রস্ত সবার প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে আহত ব্যক্তিদের দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা কামনা করেছে সরকার।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, বেসামরিক মানুষের জীবন বিপন্ন করা এবং বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো এ ধরনের হামলা অগ্রহণযোগ্য। এসব হামলা অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত।
হতাহত বাংলাদেশিদের তথ্য সংগ্রহ করছে মিশন
হামলায় নিহত দুই বাংলাদেশির পরিচয় এবং আহত বাংলাদেশিদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার লক্ষ্যেও সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করছে রিয়াদে বাংলাদেশের মিশন।
তবে নিহত ও আহত বাংলাদেশিদের নাম, পরিচয় এবং তাঁদের বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে দেওয়া তথ্যগুলোতে বিস্তারিত উল্লেখ নেই।
হামলার দায় স্বীকার হুতিদের
দ্বিতীয় প্রতিবেদনে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় মোট ১২ জন নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুই বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন বলে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। একই হামলায় আহত হয়েছেন ৩০৯ জন।
হুতিদের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আল-বুখাইতি ১০ অক্টোবর রিয়াদের বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর দাবি, ইয়েমেনে সৌদি হামলার জবাবে এ হামলা চালানো হয়েছে। সৌদি হামলায় বেসামরিক অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
তাঁর বক্তব্যে হামলার পক্ষে যে কারণ তুলে ধরা হয়েছে, তা হুতিদের পক্ষের দাবি। এ বক্তব্যের স্বাধীন যাচাই সম্পর্কে সরবরাহ করা তথ্যগুলোতে কিছু উল্লেখ নেই।
বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ
দ্বিতীয় প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, চলতি সপ্তাহে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এটি তৃতীয় হামলা। হামলার পর বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে এবং সব ফ্লাইট অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
তবে বিমানবন্দরের কার্যক্রম কখন পুনরায় শুরু হবে, সে বিষয়ে দেওয়া তথ্যগুলোতে কোনো সময়সূচি উল্লেখ করা হয়নি।
সংঘাত বন্ধের আহ্বান বাংলাদেশের
হামলার ঘটনায় সৌদি আরবের সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি দৃঢ় সংহতি পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে চলমান সংঘাত অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা।
বাংলাদেশের বিবৃতিতে বেসামরিক নাগরিক ও অবকাঠামোর সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে চলমান সংকটের শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানানো হয়েছে।
দুই বাংলাদেশির মৃত্যুতে শোক প্রকাশের পাশাপাশি তাঁদের পরিবারকে সমবেদনা জানানো এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনার মধ্য দিয়ে এ ঘটনায় বাংলাদেশের মানবিক উদ্বেগের বিষয়টি তুলে ধরেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।











