রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র চালু হতে সময় লাগবে আরও ছয় মাস 

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক :

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঞ্চালন লাইনের কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না। যদিও চলতি ডিসেম্বরেই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালু হওয়ার কথা ছিল, তবে এখন জানা গেছে, গ্রিড লাইনের প্রস্তুতি না হওয়ায় আরো ছয় মাস সময় লাগবে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুল্লি ও মূল অবকাঠামোর নির্মাণ এক বছর আগে শেষ হয়েছে। গত বছর রাশিয়া থেকে ইউরেনিয়ামের প্রথম চালানও রূপপুরে পৌঁছায়, তবে গ্রিড লাইনের কাজ সম্পন্ন না হওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হয়নি। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী মার্চে প্রথম ইউনিটের গ্রিড লাইনের নির্মাণ কাজ শেষ হবে এবং উৎপাদনে যেতে আরো কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হবে।

রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে দুইটি ইউনিট রয়েছে, যা এক লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকারও বেশি বাজেটে নির্মিত হয়েছে। প্রথম ইউনিট চালুর লক্ষ্যে রূপপুর-গোপালগঞ্জ রুটে ১৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ গ্রিড লাইন নির্মাণ করছে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ। এর মধ্যে ২ কিলোমিটার পদ্মা নদীর ওপর দিয়ে চলাচল করছে। নদীর তীরের কাজ প্রায় ৯৬ শতাংশ শেষ হলেও নদীর অংশে এখনো ৪৫ শতাংশ কাজ বাকি রয়েছে। পদ্মা নদী পাড়ি দেওয়ার জন্য মোট চারটি টাওয়ার নির্মাণ করা হচ্ছে, যার মধ্যে দুইটি নদীর তীরে এবং দুইটি নদীর মাঝখানে স্থাপন করা হচ্ছে। নদীর ভেতরের কাজ ৫০ শতাংশ শেষ হয়েছে, এবং এই কাজটি শেষ করতে আরও চার মাস সময় লাগবে।

এ বিষয়ে পিজিসিবির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুর রশিদ খান জানান, প্রথম ছয় মাসে কাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক ছিল। তবে, গত জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময়ে দেশে অস্থিরতার কারণে সঞ্চালন লাইনের নির্মাণ কাজের গতি ধীর হয়ে যায় এবং ৫ আগস্টের পর পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। তিন মাসের কাজ বন্ধ থাকার পর, নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত হওয়ার পর অক্টোবরের শেষে কাজ পুনরায় শুরু হয়।

রূপপুর এনপিপি’র প্রকল্প পরিচালক ড. জাহেদুল হাছান জানান, গ্রিড লাইনের কাজ রেডি হওয়ার পর উৎপাদন শুরু করার আগে বেশ কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতে হবে। প্রাথমিক পরীক্ষাগুলি শেষ হলে জ্বালানি লোড করতে দুই মাসের মতো সময় লাগবে এবং তারপর পরীক্ষামূলক উৎপাদনে যাওয়ার জন্য আরো এক মাস সময় লাগবে। যদি গ্রিড লাইনের কাজ মার্চের মধ্যে সম্পন্ন হয়, তবে আগস্টে টেস্ট ট্রায়াল শুরু হতে পারে। প্রথম ইউনিট চালু হওয়ার এক বছর পর, অর্থাৎ ২০২৬ সালের শেষ দিকে দ্বিতীয় ইউনিটের চুল্লি চালু হতে পারে।