জেলা প্রতিনিধি :
লস অ্যাঞ্জেলেস এলাকায় ভয়াবহ দাবানলে ১১ জনের প্রাণহানি ঘটেছে এবং প্রায় ১২ হাজার ভবন ধ্বংস হয়েছে। এই দুর্যোগে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। দাবানলের শিখা সান ফ্রান্সিসকোর চেয়েও বড় এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে।
গত মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) শক্তিশালী সান্তা আনা বাতাসের প্রভাবে দাবানলটি শুরু হয়। বৃহস্পতিবার এটি কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়লেও, আবহাওয়ার পূর্বাভাসে সতর্ক করা হয়েছে যে সপ্তাহান্তের শেষ দিকে বাতাসের গতি আবার বাড়তে পারে।
শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) শহর ও কাউন্টি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্যালিসেড এলাকায় দাবানলের ৮ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। তবে আলতাডেনার আগুন মাত্র ৩ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করা গেছে।
লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি মেডিকেল পরীক্ষকের কার্যালয় জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে প্যালিসেডস ফায়ারে পাঁচজন এবং ইটন ফায়ারে ছয়জন প্রাণ হারিয়েছেন।
বেসরকারি সংস্থা অ্যাকুওয়েদারের হিসাব অনুযায়ী, আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ১৩৫ কোটি থেকে ১৫০ কোটি ডলারের মধ্যে হতে পারে। তবে সরকারি কর্মকর্তারা এখনো আনুষ্ঠানিক ক্ষয়ক্ষতির পরিসংখ্যান প্রকাশ করেননি।
দাবানলে বাড়ি-ঘর, আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবন, চার্চ, মসজিদসহ বিভিন্ন স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। এর পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ বিঘ্নিত এবং বাতাসের মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সরিয়ে নেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছে এবং ক্ষয়ক্ষতি কমাতে ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করেছে। ইতোমধ্যে লুটপাটের ঘটনায় ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
দাবানল নিয়ন্ত্রণে দমকল বাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তবে আগাম সতর্কতা ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের জন্য স্থানীয় প্রশাসন এবং বাসিন্দারা আরও সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছেন।











