নিজস্ব প্রতিবেদক:
৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় বাতিল হওয়া রাজধানীর বড় মগবাজারের আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লাইসেন্স প্রায় দেড় মাস পর পুনর্বহাল করেছে সরকার। একইসঙ্গে হাসপাতালটিকে ৩ টি শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে।
আক সোমবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলের পর কর্তৃপক্ষ আপিল করে। ওই আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত তদন্ত কমিটিকে গত ১৫ জুলাই তিন কর্মদিবসের মধ্যে সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়। তদন্ত কমিটি পরিদর্শন শেষে প্রতিবেদন জমা দিলে তা সন্তোষজনক বিবেচিত হওয়ায় হাসপাতালটির লাইসেন্স বাতিলের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে।
তবে, পুনরায় কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতির সঙ্গে কয়েকটি শর্ত আরোপ করা হয়েছে। শর্ত অনুযায়ী, দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২-এর বিধান যথাযথভাবে প্রতিপালন করতে হবে।
এছাড়া লাইসেন্সের শর্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ডিউটি চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। ভবিষ্যতে লাইসেন্সের কোনো শর্ত লঙ্ঘিত হলে সরকার ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।
শর্তগুলো হলো :
১. ‘দ্য মেডিক্যা ল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশনস) অর্ডিন্যান্স, ১৯৮২’-এর নির্দেশনা প্রতিপালন অব্যাহত রাখতে হবে;
২. লাইসেন্সের শর্ত অনুযায়ী ডিউটি ডাক্তার ও নার্স নিয়োগের প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে;
৩. লাইসেন্সের শর্তাবলি প্রতিপালনে ব্যর্থ হলে সরকার কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষ যে কোনো সময় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
এদিকে এ বিষয়ে ফেসবুক পোস্ট দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনির। পোস্টে তিনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ। আদ্-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল লাইন্সেস ফিরে পেল।’
উল্লেখ্য, চিকিৎসায় অবহেলায় গত ২৭ মে আদ্-দ্বীন হাসপাতালের পোস্ট-ডেলিভারি ওয়ার্ড-২-এ ছয় নবজাতকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনা দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করে এবং এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। তদন্ত প্রতিবেদনে ওয়ার্ডে অক্সিজেনের স্বল্পতা, দীর্ঘ সময় এসি বন্ধ থাকা, বিকল্প ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা না থাকা, বাতাসে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বৃদ্ধি এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলাকে মৃত্যুর কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। পরে হাসপাতালটির লাইসেন্স স্থগিত (বাতিল) করে দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
পরে পুনরায় লাইসেন্স চেয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন জমা দেয় আদ্-দ্বীন কর্তৃপক্ষ। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে আজ হাসপাতালটি আবার তাদের চিকিৎসা সেবাদানের ক্ষমতা ফিরে পেল।











