লালমনিরহাটে আলু নিয়ে বিপাকে কৃষক-ব্যবসায়ীরা

জেলা প্রতিনিধি :

লালমনিরহাটে আলুর দাম পড়ে যাওয়ায় হিমাগারে সংরক্ষিত আলু নিয়ে মহাবিপদে পড়েছেন জেলার পাঁচ উপজেলার কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। উৎপাদন খরচ ও সংরক্ষণ ব্যয় মিলিয়ে যেখানে ৬০ কেজির এক বস্তা আলুতে গড় খরচ হয়েছে প্রায় দেড় হাজার টাকা, সেখানে বাজারে সেই আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায়। এতে প্রতি বস্তায় ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে।

কৃষকরা বলছেন, বাজারে ন্যায্য দাম না থাকায় তারা আলু বিক্রি করছেন না। ফলে হিমাগারে মজুদ কমছে না। গত বছরের তুলনায় এ বছর বিক্রির পরিমাণ প্রায় অর্ধেকেরও কম। যেখানে গত বছর আগস্ট নাগাদ ৪০ শতাংশ আলু বিক্রি হয়ে গিয়েছিল, এ বছর তা ২০ শতাংশও হয়নি।

জেলার ৯টি হিমাগারে মজুদ আছে ৭৮ হাজার টন আলু। অথচ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ২ লাখ ৪ হাজার টন আলু উৎপাদন হয়েছে ৭,৮০০ হেক্টর জমিতে। উৎপাদন বেশি হলেও চাহিদার ঘাটতি ও বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতায় দাম পড়ে গেছে একেবারে।

আদিতমারীর চরিতাবাড়ী গ্রামের কৃষক সোহাগ বলেন, “লাভের আশায় ১০০ বস্তা আলু রেখেছিলাম। এখন বিক্রি করে পেয়েছি মাত্র ২৮ হাজার টাকা। অথচ মৌসুমে বিক্রি করলে পেতাম প্রায় ৬০ হাজার টাকা।”

কমলাবাড়ীর কৃষক ফারুক হোসেন বলেন, “৫০ বস্তা আলু রেখেছি হিমাগারে। এখন বিক্রি করলে অন্তত ২০ হাজার টাকার লোকসান হবেই। অথচ এই আলু বিক্রির টাকায় ধান রোপণ করার পরিকল্পনা ছিল।”

কালীগঞ্জের ব্যবসায়ী মাসুদুর রহমান অভিযোগ করেন, “আলুর দাম বাড়লে সরকার হস্তক্ষেপ করে। এখন দাম পড়ে গেলেও কারও নজর নেই।”
আরেক ব্যবসায়ী জাবেদ হোসেন বলেন, “১৫০ টাকা বস্তা দরে ট্রাকে ট্রাকে আলু কিনেছি, কিন্তু পাইকারি বাজারে চাহিদা না থাকায় কিছুই পাঠাতে পারছি না।”

হিমাগার মালিকদের দাবি, কৃষক ও ব্যবসায়ী কেউ আলু তুলতে আসছেন না। গত বছর যেখানে আগস্টের মধ্যেই হিমাগার থেকে ৫০–৬০ হাজার বস্তা আলু বের হয়ে যেত, এবার তা দাঁড়িয়েছে মাত্র ১০–১৫ হাজার বস্তায়। ফলে নভেম্বরের মধ্যে হিমাগার খালি হবে কি না, তা নিয়েও তারা দুশ্চিন্তায়।

জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মো. হারুনুর রশিদ বলেন, “কৃষকরা ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. সাইখুল আরেফিন জানান, “আলুর বাজার ব্যবস্থাপনা ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সরকার যদি দ্রুত হস্তক্ষেপ না করে, তাহলে ক্ষতি আরও বাড়বে।”