শাকিব খানের রকস্টার থেকে মাসুদ রানা, ঈদের সিনেমায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া

অনলাইন ডেস্ক:

ঈদুল আজহায় দেশের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে আটটি নতুন সিনেমা। রকস্টার, মালিক, রইদ, বনলতা সেন, মাসুদ রানা, তছনছ, অফিসার ও পিনিক। হল থেকে বেরিয়ে দর্শকরা যতটা প্রশংসা করছেন, ততটাই সমালোচনাও করছেন। বক্স অফিসে এগিয়ে রকস্টার হলেও গল্প ও চিত্রনাট্য নিয়ে ছবিগুলো নিয়ে মিশ্র আলোচনা চলছে।

 

বরাবরের মতো এবারও আলোচনার কেন্দ্রে শাকিব খানের রকস্টার। সিঙ্গেল স্ক্রিন ও সিনেপ্লেক্স মিলিয়ে ১০৩টি হলে মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটি। বক্স অফিস মনিটরিং প্ল্যাটফর্ম বিএমআরের তথ্য অনুযায়ী, মুক্তির তৃতীয় দিনে ১১টি মাল্টিপ্লেক্সে ৮১টি শো চলেছে, যার মধ্যে ৩২টি ছিল হাউজফুল। তৃতীয় দিনে আয় ৫১ লাখ ৪০ হাজার টাকা, তিন দিনে মোট মাল্টিপ্লেক্স গ্রস দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৩৪ লাখ টাকায়। এর মাধ্যমে চলতি বছরে ষষ্ঠ বাংলা সিনেমা হিসেবে এক কোটির ক্লাবে প্রবেশ করল ছবিটি।

 

তবে টিকিট বিক্রিতে এগিয়ে থাকলেও রকস্টার নিয়ে দর্শকের অসন্তুষ্টিও কম নয়। আগুন নামের এক রকস্টারের গল্প নিয়ে নির্মিত সিনেমাটিতে শাকিবের অভিনয়ের প্রশংসা করলেও চিত্রনাট্য ও গল্পের অসামঞ্জস্যতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে। কেউ কেউ এটিকে সরাসরি টেলিফিল্ম বলেও মন্তব্য করেছেন। মিউজিক্যাল ফিল্ম হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও কোনো গান এখন পর্যন্ত দর্শকের মনে দাগ কাটতে পারেনি। নায়কের অতিরিক্ত মাদক গ্রহণের দৃশ্য নিয়েও অস্বস্তি জানিয়েছেন একটি বড় অংশ। পরিচালক আজমান রুশো অবশ্য আশাবাদী। তার মতে, রকস্টার ধীরে ধীরে মানুষের মন জয় করবে এবং এই ধরনের সিনেমার সাফল্য ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন পরীক্ষা-নিরীক্ষার সাহস জোগাবে।

 

বক্স অফিসে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মেজবাউর রহমান সুমনের রইদ। তৃতীয় দিনে তিনটি মাল্টিপ্লেক্সে ২২টি শো চলেছে, যার মধ্যে ৭টি হাউজফুল। তৃতীয় দিনের আয় ১৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা, তিন দিনে মোট ৩৬ লাখ ৯২ হাজার টাকা। মোস্তাফিজুর নূর ইমরান ও নাজিফা তুষির অভিনয় এবং সিনেমার ভিজ্যুয়াল দারুণ প্রশংসা পাচ্ছে। কিন্তু গল্পটি সাধারণ দর্শকের কাছে বোধগম্য হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠছে, অনেকে বলছেন পুরো সিনেমা মাথার ওপর দিয়ে গেছে।

 

একই ধরনের মন্তব্য পাওয়া যাচ্ছে মাসুদ হাসান উজ্জ্বলের বনলতা সেন নিয়েও। জীবনানন্দ দাশের জীবন ও সাহিত্যকে কেন্দ্র করে নির্মিত সিনেমাটি শুধু সিনেপ্লেক্সে দেখানো হচ্ছে। তৃতীয় দিনে ১১টি শো থেকে আয় ৭ লাখ ১৫ হাজার টাকা, তিন দিনে মোট ১৬ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। চারটি শো হাউজফুল হওয়া বনলতা সেন তুলনামূলক কম শো নিয়েও ভালো সাড়া পাচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

আরিফিন শুভ ও বিদ্যা সিনহা মিম অভিনীত মালিক তৃতীয় দিনে ১৬টি শো থেকে আয় করেছে ৬ লাখ ৪৭ হাজার টাকা, তিন দিনে প্রায় ১৫ লাখ টাকা। দীর্ঘদিন পর শুভকে অ্যাকশনে দেখে দর্শক উচ্ছ্বসিত হলেও পরিচালক সাইফ চন্দন অ্যাকশনে মনোযোগ দিতে গিয়ে গল্প ঠিক রাখতে পারেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

কাজী আনোয়ার হোসেনের জনপ্রিয় স্পাই থ্রিলার অবলম্বনে নির্মিত মাসুদ রানা সামাজিক মাধ্যমে আলোচনায় থাকলেও মাল্টিপ্লেক্সে সেই আগ্রহ দেখা যায়নি। তৃতীয় দিনে ৭টি শো থেকে আয় মাত্র ২ লাখ ৮৭ হাজার টাকা, তিন দিনে মোট ৬ লাখ ২৩ হাজার টাকা। গল্পের অসামঞ্জস্যতা ও দুর্বল এআই ব্যবহার নিয়ে ট্রলের শিকার হচ্ছে ছবিটি। পিনিক তৃতীয় দিনে ৫টি শো থেকে মাত্র ৬৭ হাজার ৪০০ টাকা আয় করেছে, তিন দিনে মোট ১ লাখ ৬৯ হাজার টাকা। আর অফিসারের অবস্থা সবচেয়ে কঠিন, তৃতীয় দিনে মাত্র একটি শো চলেছে যেখানে দর্শক ছিলেন প্রায় ৩০ জন, তিন দিনে মোট আয় ৫০ হাজার ৮০০ টাকা।

 

প্রচার নিয়েও এবার বিতর্ক কম নয়। পিনিকের প্রযোজক আশরাফ কিটু ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধান অভিনয়শিল্পী আদর আজাদ ও শবনম বুবলীর অনুপস্থিতি নিয়ে। তার মতে, প্রচারে না আসাটা সিনেমার সঙ্গে একধরনের প্রতারণা। মাসুদ রানার নায়িকা পূজা চেরীও প্রচারে আসেননি, প্রযোজক আব্দুল আজিজ জানিয়েছেন কারণটা তিনি নিজেও জানেন না। অফিসারের নায়িকা মাহিয়া মাহি আছেন দেশের বাইরে, তছনছের ইয়ামিন হক ববি দেশে থেকেও প্রচারে আসেননি, তার বিরুদ্ধে সংগঠনে অভিযোগ করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রযোজক ও নায়ক মুন্না খান। রকস্টারে শাকিব খানকেও হল ভিজিটে দেখা যাচ্ছে না, তবে পরিচালক জানিয়েছেন শিগগিরই দর্শকদের সঙ্গে ছবি উপভোগ করবেন তিনি।

 

সব মিলিয়ে এবারের ঈদে সিনেমাগুলো ব্যবসায়িকভাবে কতটা সফল হবে তা এখনই বলা মুশকিল। তবে রকস্টার স্পষ্টতই এগিয়ে, আর বাকিরা টিকে থাকার লড়াই করছে।