অনলাইন ডেস্ক:
শান্তিতে নোবেল পুরস্কারজয়ী যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার মারা গেছেন। তিনি স্থানীয় সময় ২৯ ডিসেম্বর, রোববার, জর্জিয়ার প্লেইনসে তার নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ১০০ বছর।
কার্টারের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘কার্টার সেন্টার’। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি সেখানে ‘হসপিস কেয়ার’-এ ছিলেন। গত কয়েক বছর ধরে ত্বকের ক্যানসার মেলানোমাসহ বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি।
১৯৭৬ সালে ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারির পর জর্জিয়ার স্থানীয় ডেমোক্র্যাট নেতা হিসেবে রিপাবলিকান জেরাল্ড ফোর্ডকে পরাজিত করে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন জিমি কার্টার। তিনি ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ৩৯তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
কার্টারের শাসনকাল ছিল কঠিন, যেখানে অর্থনৈতিক সংকট এবং ইরানে মার্কিন দূতাবাসে ৫২ জন কূটনীতিক ও নাগরিককে জিম্মি করা হয়েছিল। তবে তাঁর প্রেসিডেন্সির বড় সাফল্য ছিল ক্যাম্প ডেভিড চুক্তি, যা মিশর ও ইসরায়েলের মধ্যে শান্তিচুক্তির ভিত্তি তৈরি করে।
১৯৮০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রোনাল্ড রিগ্যানের কাছে পরাজিত হয়ে তিনি হোয়াইট হাউস ছাড়েন। এরপর, তিনি মানবিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে নিবেদিত করে আন্তর্জাতিক মহলে সম্মানিত হন।
২০২২ সালে, আন্তর্জাতিক শান্তি প্রচেষ্টায় অবদান, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের উন্নতির জন্য তাঁকে নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। তাঁর ছেলে চিপ কার্টার এক বিবৃতিতে বলেন, “আমার বাবা ছিলেন একজন নায়ক; শুধু আমার কাছে নয়, যাঁরা শান্তি, মানবাধিকার ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসায় বিশ্বাস করেন, তাঁদের কাছে তিনি ছিলেন আদর্শ।”
জিমি কার্টার একে একে চার সন্তান এবং ১১ নাতি-নাতনি রেখে গেছেন। তাঁর স্ত্রী রোজালিন কার্টার ২০২৩ সালের নভেম্বরে মারা যান। ১৯৪৬ সালে তিনি রোজালিনকে বিয়ে করেন, এবং একসঙ্গে তাদের জীবন কাটানো ছিল বিশেষ।











