শেখ হাসিনা-কামালসহ ৬ পলাতক আসামিকে আত্মসমর্পণে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজধানীর মিরপুরের কল্যাণপুরে অবস্থিত ‘জাহাজবাড়ি’ ভবনে ৯ তরুণকে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও পাঁচ পলাতক আসামিকে আদালতে আত্মসমর্পণের জন্য জাতীয় পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছেন। ট্রাইব্যুনাল মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৮ মার্চ দিন ধার্য করেছেন।

 

এই মামলায় মোট আটজন আসামি রয়েছে। তাদের মধ্যে সাবেক আইজিপি একেএম শহিদুল হক এবং ডিএমপির সাবেক কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান মিয়া বর্তমানে গ্রেফতার রয়েছেন। বাকিদের মধ্যে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার শেখ মুহম্মদ মারুফ হাসান, সিটিটিসি’র প্রধান মনিরুল ইসলাম, যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণ পদ রায় এবং যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) আব্দুল বাতেন পলাতক। আদালতের আদেশে পলাতক আসামিদের উপস্থিতির জন্য আইন অনুযায়ী পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে বলা হয়েছে।

 

রোববার ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম। তার সঙ্গে ছিলেন প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদার ও আবদুস সাত্তার পালোয়ান। এর আগে ২৯ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল আটজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিল।

 

২০১৬ সালের ২৫ জুলাই রাতে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ‘অপারেশন স্টর্ম-২৬’ নামে একটি অভিযান চালিয়ে জাহাজবাড়িতে ৯ তরুণকে হত্যা করে। তৎকালীন প্রশাসন ঘটনাস্থলকে জঙ্গি আস্তানা হিসেবে ঘোষণা করলেও পরে তদন্তে দেখা যায়, এটি একটি সাজানো নাটক ছিল এবং পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার এবং বিভিন্ন তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই হত্যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন।

 

ট্রাইব্যুনালের এ নির্দেশের মাধ্যমে পলাতক আসামিদের জন্য নতুন আইনি প্রক্রিয়া শুরু হলো। মামলার পরবর্তী শুনানি ৮ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে আদালত পলাতকদের হাজিরা এবং মামলার কার্যক্রম অগ্রসর করবে।