নিজস্ব প্রতিবেদক :
দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের (এনসিসি) দ্বিতীয় পর্যায়ের তৃতীয় বৈঠক বুধবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। এদিনের আলোচনায় অংশ নিয়ে জামায়াতে ইসলামী তাদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থান ব্যাখ্যা করার পাশাপাশি সরকারের নিরপেক্ষতা ও কমিশনের কাঠামো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
জামায়াতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘‘কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সরকারের যৌথ সংবাদ সম্মেলন ইতিহাসের বিরল ঘটনা, যা দেশের অন্যান্য দলকে বিব্রত করেছে। এজন্য আমরা প্রথমে বৈঠকে অংশ নেওয়া থেকে বিরত ছিলাম।’’
এক সপ্তাহ আগে লন্ডনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বৈঠক ও যৌথ সংবাদ সম্মেলনের পর জামায়াত নিজেকে উপেক্ষিত মনে করায় তারা এনসিসির আগের বৈঠকে অংশ নেয়নি। তবে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার পর আজকের বৈঠকে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জামায়াত।
তাহের আরও বলেন, ‘‘আমরা চাই না রাষ্ট্রপতি ও প্রধান বিচারপতি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আওতায় আসুক। তিন বাহিনী প্রধানের নিয়োগও কমিশনের অধীনে থাকা উচিত নয়। এসব বিষয়ের ব্যাপক আলোচনা প্রয়োজন।’’
তিনি বলেন, ‘‘আমাদের উদ্দেশ্য সরকারকে ব্যর্থ করা নয়, বরং গঠনমূলক সহযোগিতা করা।’’
অন্যদিকে, প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, ‘‘জামায়াতের সঙ্গে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে এবং আশা করা যায় তারা ভবিষ্যতের বৈঠকেও অংশ নেবেন।’’
তবে বিএনপি ও সরকারের মধ্যে প্রকাশ্য সম্পর্ক জাতীয় ঐকমত্যের প্রয়াসকে জটিল করেছে বলে মত প্রকাশ করছেন অনেক বিশ্লেষক। এনসিসি গঠনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে দেশের রাজনৈতিক সংকটের শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য সমাধান।











