সাপাহারে প্রভাবশালী দখলবাজদের রোষানলে পড়ে অসহায় পরিবার

জেলা প্রতিনিধি, নওগাঁ :

নওগাঁর সাপাহার উপজেলার শিতলডাঙ্গা গ্রামে কয়েকটি অসহায় পরিবার এখন প্রভাবশালী দখলবাজদের রোষানলে পড়ে সর্বশান্ত। দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করা জমির বৈধ দলিল থাকা সত্ত্বেও দখলবাজরা তাদের হুমকি ও বেআইনী কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ওই পরিবারগুলোকে স্বাভাবিকভাবে তাদের সম্পত্তি ভোগ দখল করতে দিচ্ছে না।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল বাশির তার লিখিত অভিযোগে জানান, প্রায় ৩০-৩৫ বছর আগে গোপালপুর মৌজার জমি ক্রয় করেন তিনি ও তার পরিবার। জমির দাতা ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার আনজিলা খাতুন ও লোকমান হোসেন। তারা বিভিন্ন দলিলের মাধ্যমে মোট ৪.০৪ শতক জমি ক্রয় করেন এবং এই জমি দীর্ঘ ৩০-৩৫ বছর ধরে চাষাবাদ উপযোগী করে ভোগদখল করে আসছেন।

তবে, বিগত সরকারের সময় থেকে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আয়েশ উদ্দীন নামক ভূমি দস্যু তার লাঠিয়াল বাহিনী দিয়ে জমিটি জবরদখল করে ফেলে এবং সেখানে চাষাবাদ শুরু করে। জমির বৈধ মালিকগণ প্রশাসন ও সমাজপতিদের কাছে ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য বারবার আবেদন জানালেও কোনো ফল মেলেনি।

এদিকে, গত ২৬ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে নওগাঁ আদালতে দখলদার আয়েশ উদ্দীনসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন বাদীপক্ষ। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য স্থানীয় ভূমি সহকারী কমিশনারকে দায়িত্ব প্রদান করেন। ১৬ মার্চ ২০২৫ তারিখে তহশীলদার শামসুদ্দীন সরেজমিন তদন্ত করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। এরপর সহকারী ভূমি কমিশনার আবিদা সিফাত দলিলপত্র পর্যালোচনা করে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।

এতে জানা যায় যে, নালিশী জমির বৈধ মালিকরা ৩০-৩৫ বছর ধরে জমিটি ভোগদখল করে আসছেন এবং দখলদারদের কাছে কোনো বৈধ দলিলপত্র নেই। আদালত ১৪৪/১৪৫ ধারায় জমি স্থিতিশীল রাখার নির্দেশ দেন। তবে, বিবাদী পক্ষ আদালতের নির্দেশ অমান্য করে আবারো ওই জমিতে ধান রোপণ করেন।

সম্প্রতি, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে অজ্ঞাত পরিচয়ের কেউ ওই জমির ফসল নষ্ট করতে আগাছা নাশক ছিটিয়ে দেয়। এ ঘটনার পর আয়েশ উদ্দীন বাদী হয়ে মামলা করেন এবং পুলিশ তদন্ত করছে। আবারো, ২৮ মার্চ ২০২৫ তারিখে ফসল নষ্ট করার জন্য আগাছা নাশক ছিটানো হয়। এই পরিস্থিতিতে আয়েশ উদ্দীন পুনরায় মিথ্যা মামলার পাঁয়তারা শুরু করেছে।

এ বিষয়ে আয়েশ উদ্দীনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তার বাবা এই জমি খাস হিসেবে পত্তন নিয়েছেন। তবে তিনি তার পত্তনের কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হন এবং পরে দেখানোর কথা বলে ফোন কেটে দেন।

এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে আপোষ মিমাংসার জন্য বৈঠক হলেও, আয়েশ উদ্দীন তার পক্ষে কোনো প্রামাণ্য দলিল উপস্থাপন করতে পারেননি। সাপাহার উপজেলার প্রশাসন ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।