অনলাইন ডেস্ক:
জুলাই-অগাস্টে ছাত্রজনতার আন্দোলনে ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের জামিন ও মামলা বাতিল আবেদনের শুনানি দুই মাস পিছিয়েছে। খায়রুল হকের আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল রোববার বিচারপতি জাকির হোসেন ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাই কোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়। আদালতে খায়রুল হকের পক্ষে সময় আবেদন করেন আইনজীবী জাহাঙ্গীর হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারল মো. আসাদুজ্জামানসহ আরও কয়েকজন আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন। পরে আদালত আগামী অবকাশের এক সপ্তাহ পর পরবর্তী দিন রাখে। ৭ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের অবকাশজনিত ছুটি শুরু হয়ে শেষ হবে ১৬ অক্টোবর। গত ১১ আগস্ট এ আবেদনের শুনানি করতে যাওয়া এ বি এম খায়রুল হকের আইনজীবীদের সঙ্গে ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের হট্টগোল ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। ওইদিন এক সপ্তাহ পিছিয়ে দিন রাখা হয়। ওইদিন বিকাল ৩টার দিকে খায়রুল হকের পক্ষে শুনানি করার জন্য আদালতে হাজির হন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এম কে রহমান, কামরুল হক সিদ্দিকী, জেড আই খান পান্না, মোহসীন রশিদ, মোতাহার হোসেন সাজু, সৈয়দ মামুন মাহবুবসহ আরও কয়েক আইনজীবী। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা আগে থেকে উপস্থিত ছিলেন। শুনানি শুরু হলে রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রাসেল আহমেদ আদালতকে বলেন, ‘অ্যাটর্নি জেনারেল এক সপ্তাহ সময় নিতে বলেছেন। এক সপ্তাহ পর এটা শুনানির জন্য রাখেন’।” তখন খায়রুল হকের আইনজীবী মোহসিন রশিদ ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেলকে বলেন, “আপনি আদালতকে এভাবে নির্দেশনা দিতে পারেন না।” এরপর খায়রুল হকের আইনজীবী ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের মধ্যে হট্টগোল ও হইচই শুরু হয়। ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে। আদালত তখন বার বার উভয়পক্ষের আইনজীবীদের নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে আদালত পরবর্তী শুনানির জন্য গতকাল রোববার দিন ঠিক করেছিল।
এ বি এম খায়রুল হক ২০১০ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০১১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ ২০১১ সালের ১০ মে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দেয়। তাতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অবৈধ হয়ে যায়। খায়রুল হক অবসরে যাওয়ার পর ২০১৩ সালের ২৩ জুলাই তাকে তিন বছরের জন্য আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ওই মেয়াদ শেষে কয়েক দফা পুনর্নিয়োগ দেওয়া হয় তাকে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে ১৩ অগাস্ট আইন কমিশন থেকে পদত্যাগ করেন খায়রুল হক। এরপর তার বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলা হয়। তার নয় মাসের মাথায় গত ২৪ জুলাই ধানমন্ডির বাসা থেকে এ বি এম খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। পরে ওইদিনই তাকে যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে ২৯ জুলাই ‘বেআইনি রায় দেওয়া ও জাল রায় তৈরির’ অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানায় করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।











