সিগারেটের আগুন থেকেই সাইপ্রাসের ভয়াবহ দাবানল

অনলাইন ডেস্ক:

সাইপ্রাসে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম ভয়াবহ দাবানলের সূত্রপাত হয়েছিল একটি অসাবধানতাবশত ফেলে দেওয়া সিগারেটের আগুন থেকে। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যালকোহল, টোব্যাকো, ফায়ারআর্মস অ্যান্ড এক্সপ্লোসিভস ব্যুরো (ATF)-এর এক তদন্তে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, উপকূলীয় লিমাসল শহরের কাছে মালিয়া ও আর্সোস গ্রামের সংযোগ সড়কের ধারে শুষ্ক ঝোপঝাড়ে সিগারেটের আগুন থেকেই হঠাৎ শুরু হয় এই ভয়াবহ দাবানল। ঘটনাস্থল থেকে অসংখ্য সিগারেটের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করেছে তদন্তকারীরা।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ঘটনার সময় বাতাসের গতি ছিল প্রবল, পরিবেশ ছিল অতিমাত্রায় শুষ্ক ও দাহ্য। উচ্চ তাপমাত্রা (৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস) ও কম আর্দ্রতা আগুন ছড়িয়ে পড়ার জন্য উপযুক্ত পরিস্থিতি তৈরি করেছিল।

দাবানলে দুইজনের মৃত্যু হয়, যাদের মধ্যে এক বৃদ্ধ দম্পতি ছিলেন। আগুন থেকে বাঁচতে গাড়িতে পালানোর চেষ্টা করেও তারা রক্ষা পাননি। তাদের গাড়িটি উদ্ধার করা হয় একটি পাহাড়ি সড়কের ধারে।

এ ঘটনায় ৭০০টির বেশি স্থাপনা ধ্বংস হয় এবং প্রায় ১০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা পুড়ে যায়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রায় ২৫০ জন অগ্নিনির্বাপক কর্মী এবং ১৪টি বিমান টানা দুদিন ধরে কাজ করে।

সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট নিকোস ক্রিস্টোডুলিদেসের অনুরোধে যুক্তরাষ্ট্রের ATF-এর একটি দল ১০ দিনব্যাপী তদন্ত পরিচালনা করে।

এদিকে, বিশ্বজুড়ে দাবানলের কারণ নিয়ে পরিচালিত একটি গবেষণায় উঠে এসেছে, ২০২৫ সাল ছিল ইউরোপের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ দাবানলের বছর। ‘ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন’-এর তথ্যমতে, এ বছর দাবানলের তীব্রতা ছিল ২২ শতাংশ বেশি। তুরস্ক, গ্রিস ও সাইপ্রাসে দাবানলে অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়, ৮০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নিতে হয় এবং ১০ লাখ হেক্টরেরও বেশি বনভূমি পুড়ে যায়। জলবায়ু পরিবর্তন, অস্বাভাবিক তাপদাহ এবং বৃষ্টির ঘাটতিকে এসব দাবানলের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।