সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজির কবলে নিত্যপণ্য বাজার, সরকারের কঠোর পদক্ষেপেও নিরাশা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

দেশে সরকার বদল হলেও চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেটের তৎপরতা থেকে মুক্তি পায়নি সাধারণ মানুষ। সরকারের নানা উদ্যোগের পরেও এসব সমস্যা অব্যাহত রয়েছে, যার ফলে বাজারে নিত্যপণ্যের দাম হু হু করে বাড়ছে। বিগত সরকারের পতনের পর মাসখানেক বন্ধ থাকলেও এখন আবার সক্রিয় হয়েছে চাঁদাবাজ ও সিন্ডিকেট চক্র। এতে চাল, পেঁয়াজ, আলু, রসুন, মাংসসহ প্রায় সব ধরনের পণ্যই বাজারে চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে।

সরকার বাজারে নিত্যপণ্যের দাম কমানোর জন্য শুল্ক ও কর ছাড়ের মতো কিছু পদক্ষেপ নিলেও ব্যবসায়ীরা তা কাজে লাগিয়ে সুবিধা নিচ্ছে। সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি এখন আগের অবস্থায় ফিরে এসেছে, এবং শুধু ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বদল হয়েছে বলে অভিযোগ উঠছে। বাজার সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পাইকারি বাজারে শিম, কাঁচা মরিচ, বেগুন, কাঁচা টমেটোসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ছে। যেমন, বগুড়ার মহাস্থান হাটে শিম প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হলেও ঢাকার খুচরা বাজারে এর দাম ৮০ থেকে ১০০ টাকা। কাঁচা মরিচ, বেগুন, টমেটো এবং অন্যান্য শীতকালীন সবজির দামও ঢাকায় অনেক বেশি, যা পাইকারি দামে বিক্রি হওয়ার চেয়ে প্রায় তিন গুণ।

মহাস্থান হাটের আড়তদাররা জানান, শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়লেও চাঁদাবাজি চলছে। উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকায় আসা মালবাহী যানবাহনগুলোকেও একাধিক স্থানে চাঁদা দিতে হয়। প্রতিটি স্থানে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা নেয় চাঁদাবাজরা।

বর্তমান অন্তর্র্বতীকালীন সরকার বাজারে সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে নানা পদক্ষেপ নিলেও কার্যকর ফল পাচ্ছে না। এদিকে, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, “চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সমাজ থেকে প্রতিবাদ গড়ে তুলতে হবে, নগরবাসীর সহযোগিতা ছাড়া পুলিশ কিছু করতে পারবে না।”

এছাড়া, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব এএইচএম সফিকুজ্জামান বলেন, “চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেটের কারণে পণ্যের দাম ৩০ শতাংশ বাড়ছে। সমবায় পদ্ধতি চালু করলে বাজারে অস্থিরতা থাকতো না।”

যদিও সরকারের তরফ থেকে বাজার নিয়ন্ত্রণে নানা পদক্ষেপ নেয়া হলেও সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজি তৎপরতা কমছে না, ফলে বাজারে পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে আনা খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে।