সিপিডি সুপারিশ করেছে, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ (এফআইডি) বন্ধ করার

অনলাইন ডেস্ক:

বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের স্বায়ত্তশাসন রক্ষা এবং অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলার জন্য সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ (এফআইডি) বন্ধ করার সুপারিশ করেছে। সিপিডি বলছে, এফআইডির মাধ্যমে দ্বৈত শাসন ব্যবস্থার সৃষ্টি হয়েছে, যা বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ করছে এবং ব্যাংকিং খাতের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত করছে। গতকাল বুধবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে সিপিডির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এই সুপারিশ উত্থাপন করা হয়।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, “এফআইডি, যা বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের ওপর রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের সুযোগ তৈরি করেছে, তা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য ক্ষতিকর। এর ফলস্বরূপ, ব্যাংকগুলোর স্বাধীনতা দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং নীতি নির্ধারণে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।”

অতিরিক্তভাবে, সিপিডি রিপোর্টে জানানো হয়েছে, দেশের ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বর্তমানে বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২ লাখ ৮৪ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা, যা মোট অপরিশোধিত ঋণের প্রায় ১৭ শতাংশ। এই ঋণের বৃদ্ধি দেশের ব্যাংকগুলোর সক্ষমতাকে দুর্বল করছে এবং অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাতে বরাদ্দ কমে যাচ্ছে।

সিপিডি জানাচ্ছে, বিগত সরকারের সময়ে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ব্যাংকিং খাতকে দুর্বল করে দিয়েছে, যার ফলে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ব্যাংকগুলোর অবস্থান দুর্বল হয়েছে। সিপিডির মতে, ব্যাংকিং খাতের শক্তিশালীকরণের জন্য জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে, যার মধ্যে রয়েছে—বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন রক্ষা এবং ব্যাংকিং খাতের কার্যক্ষমতা পুনঃস্থাপন।

তবে, সিপিডি আরও বলছে যে, রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ছাড়া শক্তিশালী স্বার্থান্বেষী মহলকে মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। ফলে, প্রতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন, যাতে একটি কার্যকর এবং টেকসই সংস্কার বাস্তবায়িত হতে পারে।

এদিকে, সিপিডি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য একটি ভারসাম্যপূর্ণ এবং কার্যকরী কৌশল গ্রহণের সুপারিশ করেছে, যা সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি, পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের জন্য মাঝারি থেকে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের সূচনা করবে।

সিপিডির সম্মানীয় ফেলো প্রফেসর ড. মোস্তাফিজুর রহমান এবং গবেষণা পরিচালক খোন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।