জেলা প্রতিনিধি, সিলেট :
আওয়ামী লীগ সরকারের ২০১০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সময়কালে উন্নয়ন বাজেটে ৭ হাজার লক্ষ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে, বলে মন্তব্য করেছেন শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির সদস্য ও বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. এ কে এনামুল হক। শনিবার সিলেট প্রেসক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত নাগরিক সংলাপে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সিলেটের কবি নজরুল অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এই নাগরিক সংলাপে ড. হক আরও বলেন, “২০১০ থেকে ২০২৩-২৪ সেশনে উন্নয়ন বাজেটে মোট ১৭ লক্ষ কোটি টাকা খরচ হয়েছে, যার মধ্যে ৭ হাজার লক্ষ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। এই টাকা কোথাও না কোথাও গেছে, এবং শুধুমাত্র রাজনীতিবিদদের কাছে নয়, বরং সরকারি আমলাদের ভাগও বেশি।”
সংলাপে সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল কবিরের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলামের সঞ্চালনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. কামাল আহমদ চৌধুরী।
এছাড়াও নাগরিক সংলাপে অংশ নেন সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, মহানগর জামায়াতের আমীর মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এমাদ উল্লাহ শহিদুল ইসলাম শাহীন, লিডিং ইউনিভার্সিটির ডিন প্রফেসর ড. বশির আহমদ ভূঁইয়া, সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ফয়েজ হাসান ফেরদৌস, সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফয়েজ আহমদ এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
অধ্যাপক ড. কামাল আহমদ চৌধুরী বলেন, “গত কয়েক বছরে দেশের রাজনৈতিক, ধর্মীয় এবং অর্থনৈতিক কাঠামো ধ্বংস হয়েছে। ছাত্র-জনতার অভ্যূত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এসেছে এবং রাষ্ট্র সংস্কারের অংশ হিসেবে গঠিত হয়েছে সংস্কার কমিশন।”
অন্য বক্তারা উল্লেখ করেন, “প্রথমেই প্রয়োজন ছিল শিক্ষা সংস্কার কমিশন গঠন, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এই বিষয়টি নিয়ে কোনো কমিশন গঠিত হয়নি। প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা এখন ধ্বংসপ্রাপ্ত, যা নিয়ে ভাবনা-চিন্তা করা জরুরি।”
বক্তারা আরও বলেন, “সকলের মধ্যে নৈতিকতার পরিবর্তন আনা অত্যন্ত জরুরি, না হলে সংস্কারের কার্যক্রম সফল হবে না। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে ব্যক্তির নৈতিকতা ও আইনি সচেতনতা প্রয়োজন।”
এ ছাড়া, সিলেটের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় লিডিং ইউনিভার্সিটি এবং সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সহযোগিতায় আয়োজিত এই সংলাপের শুরুতেই শহীদ এটিএম তুরাবের রুহের মাগফেরাত কামনা করা হয়।










