অনলাইন ডেস্ক:
সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের মধ্যে নতুন একটি পরমাণু চুক্তির জন্য মধ্যস্থতা করতে আগ্রহী। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সৌদি আরব ইরান থেকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং ট্রাম্পের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের মাধ্যমে তারা এই দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সেতুবন্ধন তৈরি করতে চায়। তবে সৌদি আরব আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রস্তাব দিয়েছে কিনা, তা স্পষ্ট নয়।
২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে বিশ্ব শক্তিগুলোর পরমাণু চুক্তি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছিল সৌদি আরব, তবে তারা গোপনে চুক্তির বিরোধিতা করেছিল। সৌদি আরবের অভিযোগ ছিল, তৎকালীন মার্কিন প্রশাসন ইরানের আঞ্চলিক কার্যক্রম, বিশেষ করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং হুথি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট পদক্ষেপ নেয়নি। ২০১৮ সালে, ট্রাম্প প্রশাসন একতরফাভাবে ওই চুক্তি থেকে বের হয়ে গেলে, সৌদি আরব এটিকে স্বাগত জানায়।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, সৌদি-ইরান সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে। ২০২৩ সালে চীনের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপন হয়েছে। সৌদি আরব এখন আঞ্চলিক সংঘাত এড়াতে সক্ষম হয়েছে, এমনকি ইসরায়েল-ইরান উত্তেজনার মধ্যেও তাদের সম্পর্কের উন্নতি ঘটেছে।
দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ইরানের সঙ্গে নতুন চুক্তি করতে চান, তবে তিনি এখনো ইরানের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বজায় রেখেছেন। ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ লিখেছেন, “আমি চাই ইরান একটি মহান এবং সমৃদ্ধ দেশ হোক, তবে এমন একটি দেশ নয় যা পারমাণবিক অস্ত্র ধারণ করবে।”
এদিকে, ইরান থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সম্প্রতি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় বসা “বুদ্ধিমানের কাজ নয়।” সৌদি আরব বর্তমানে ইরান ও হোয়াইট হাউসের মধ্যে কূটনৈতিক সেতুবন্ধন তৈরিতে আগ্রহী, তবে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রস্তাব দেয়া হয়নি।
এদিকে, সৌদি-ইরান সম্পর্কের এই উন্নতির মধ্যে চীনের মধ্যস্থতায় কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপন এবং হুথি বিদ্রোহীদের হামলা বন্ধ হওয়ার মাধ্যমে সৌদি আরব আঞ্চলিক সংঘাত এড়াতে সক্ষম হয়েছে।











