নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজস্ব আদায়ে স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা বাড়াতে ঝুঁকিভিত্তিক অডিট পদ্ধতির মাধ্যমে ৭২ হাজার ৩৪১টি আয়কর রিটার্ন নির্বাচন করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় এই প্রক্রিয়ায় ২০২৩-২৪ করবর্ষের দ্বিতীয় পর্যায়ে রিটার্নগুলো অডিটের জন্য বাছাই করা হয়। এতে কোনো ধরনের ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপের সুযোগ না থাকায় পুরো প্রক্রিয়াটিকে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ হিসেবে দেখছে কর্তৃপক্ষ।
এনবিআর জানিয়েছে, মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য জানানো হয়। এর আগে প্রথম পর্যায়ে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে র্যান্ডম সিলেকশন পদ্ধতিতে ১৫ হাজার ৪৯৪টি রিটার্ন অডিটের জন্য নির্বাচন করা হয়েছিল। দ্বিতীয় ধাপে এবার বড় পরিসরে এই নির্বাচন সম্পন্ন হলো।
রাজস্ব বোর্ড জানায়, ঝুঁকিভিত্তিক নিরীক্ষা মানদণ্ড অনুসরণ করে প্রতিটি কর সার্কেলের জন্য সর্বোচ্চ ২০০ এবং সর্বনিম্ন ২০ জন করদাতাকে অডিটের আওতায় আনা হয়েছে। এই পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অটোমেটেড হওয়ায় কোনো ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপের সুযোগ ছিল না। ফলে করদাতা ও সুশীল সমাজের দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়েছে বলে মনে করছে এনবিআর।
এ বিষয়ে এনবিআরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “অটোমেটেড ব্যবস্থার মাধ্যমে অডিট নির্বাচন করায় প্রক্রিয়াটি আরও নিরপেক্ষ হয়েছে এবং রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।” একই সঙ্গে নির্বাচিত টিআইএন নম্বরের তালিকা এনবিআরের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, ডিজিটাল পদ্ধতিতে অডিট নির্বাচন রাজস্ব ব্যবস্থায় বড় ধরনের সংস্কারের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এতে একদিকে যেমন কর ফাঁকি শনাক্ত করা সহজ হবে, অন্যদিকে কর ব্যবস্থার প্রতি আস্থা বাড়বে সাধারণ করদাতাদের মধ্যে।
এনবিআরের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, এই ঝুঁকিভিত্তিক অটোমেটেড অডিট ব্যবস্থা ভবিষ্যতে রাজস্ব আহরণ প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর ও আধুনিক করে তুলবে।











