হজ-ওমরাহ যাত্রীদের টিকিট ৫০ হাজার টাকার মধ্যে রাখার আহ্বান

অনলাইন ডেস্ক:

হজ ও ওমরাহ যাত্রীদের টিকিটের চড়া দাম নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে বক্তারা বলেছেন, টিকিটের দাম ৫০ হাজারের বেশি হওয়া উচিত নয়। তারা দ্রুত টিকিটের দাম কমানোর দাবি জানান। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে হজ ও ওমরাহ যাত্রীদের বিমান টিকিট সিন্ডিকেট এবং মানোন্নয়ন নিয়ে আলোচনা সভায় বক্তারা এই আহ্বান জানান। বাংলাদেশ হজ ও ওমরাহ মুয়াল্লিম ফাউন্ডেশন এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, বর্তমানে টিকিটের দাম প্রায় লাখ টাকার কাছাকাছি হয়ে গেছে, যা সাধারণ মুসলিম পরিবারগুলোর জন্য নাগালের বাইরে। তারা অভিযোগ করেন, সৌদিতে হোটেল ভাড়া, খাবার এবং অন্যান্য খরচ মিলিয়ে মধ্যবিত্ত ও উচ্চ-মধ্যবিত্ত মুসলমানরা এই মহান ইবাদত থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

জামায়াত ইসলামি পল্টন থানা জামায়াতের আমির শাহীন আহমেদ খান বলেন, “হজ ইসলামের একটি মৌলিক স্তম্ভ। মুসলমানদের জন্য এই পবিত্র ইবাদত সহজ করতে হবে, কিন্তু এখন হজ ও ওমরাহকে সিন্ডিকেট এবং ব্যবসায় পরিণত করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “ধর্ম উপদেষ্টা হজ ও ওমরাহ খরচ কমানোর আশ্বাস দিলেও সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।”

হেফাজতে ইসলামের নায়েবে আমির ও খেলাফত মজলিসের সহ-সভাপতি আহম্মদ হোসাইন কাসেমী বলেন, “ওমরাহর টিকিট যদি এত দামি হয়, তাহলে অন্যান্য খরচ কেমন হবে? টিকিট সিন্ডিকেট ভাঙতে হলে, হজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাইকে এক হয়ে কাজ করতে হবে।”

সভায় সভাপতির বক্তব্যে কে এম আবু হানিফ রিদয় বলেন, “সিন্ডিকেটকারীরা আওয়ামী লীগের দোসর। তাদের লাইসেন্স এখনও বহাল রয়েছে, যদিও তাদের কার্যক্রম বন্ধ হওয়া উচিত ছিল। ভারত ও ইন্দোনেশিয়া কম দামে হজ ও ওমরাহ করতে পারে, কিন্তু আমরা, যে দেশ মুসলিম প্রধান, চড়া মূল্যের কারণে যেতে পারছি না।”

বক্তারা আরও বলেন, “এ সরকারকে আমরা ব্যর্থ হিসেবে দেখতে চাই না, তাই দ্রুত হজ ও ওমরাহ যাত্রীদের টিকিটের দাম কমিয়ে এবং এই সেক্টরের মানোন্নয়ন করতে হবে।”