হত্যাচেষ্টা মামলায় চার দিনের রিমান্ডে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের দিলীপ আগারওয়ালা

অনলাইন ডেস্ক:

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থী আ. জব্বারকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার মামলায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিলীপ কুমার আগারওয়ালাকে চার দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ্ ফারজানা হক শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। এর আগে মানি লন্ডারিং মামলায় এক দিনের রিমান্ড শেষ হয় তার।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক মো. সুমন মিয়া আসামiniকে হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোসহ ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছিলেন। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল ও জামিনের আবেদন করেন, আর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা এর তীব্র বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, হত্যাচেষ্টা মামলায় চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুরের পাশাপাশি মানি লন্ডারিং মামলায় এক দিনের রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, আসামি দিলীপ কুমার আগারওয়ালা (৫৭) কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপকমিটির সদস্য এবং চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ছিলেন। তিনি অন্যান্য আসামিদের সঙ্গে ঘটনাস্থলে সশরীরে উপস্থিত থেকে এই অপরাধে অংশ নেন বলে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলার মূল রহস্য উদঘাটন, পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং ঘটনার সময় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধারের জন্য তাকে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন ছিল।

আদালতে আসামিপক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আনোয়ারুল কবীর বাবুল, আব্দুল আল মনসুর রিপন ও সানাউল ইসলাম টিপু। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী হারুন অর রশিদ ও গোলাম মুর্তজা ইবনে ইসলাম।

এর আগে গত ১৯ অক্টোবর রাজধানীর বনানীর একটি বাসা থেকে দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরদিন ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ টাকার চোরাচালান ও মানিলন্ডারিং মামলায় তার এক দিন এবং হত্যাচেষ্টা মামলায় এই চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হলো।

মামলার বিবরণী অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় উত্তরা পশ্চিম থানাধীন ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের বিএনএস সেন্টারের সামনে গুলিবিদ্ধ হন আ. জব্বার। দীর্ঘ সময় চিকিৎসাধীন থাকার পর কিছুটা সুস্থ হয়ে ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ তিনি বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় হত্যাচেষ্টা মামলাটি দায়ের করেন। ওই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৫০ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১০০-১৫০ জনকে আসামি করা হয়।

উল্লেখ্য, এর আগেও সোনা ও হীরা চোরাচালান, প্রতারণা এবং অর্থপাচারের অভিযোগে গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বর দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে গুলশানের কার্যালয় থেকে ঘেরাও করে আটক করেছিল র‌্যাব। এছাড়া বাড্ডায় কিশোর হৃদয় আহমেদ হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন অভিযোগে তাকে একাধিকবার রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল।