হাদি হত্যা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন আবারও পেছাল, নতুন তারিখ ২৭ সেপ্টেম্বর

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় আবারও পিছিয়েছে। প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর নতুন দিন ধার্য করেছেন আদালত। এ নিয়ে মামলাটির অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় ১৯ বারের মতো পেছাল।

 

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের দিন নির্ধারিত ছিল। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঞা নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন জমা দিতে পারেননি। পরে আদালত নতুন তারিখ ঘোষণা করেন।

 

প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, অধিকতর তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সিআইডিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।

 

হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। পরে হাদির মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়।

 

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর নির্বাচনী প্রচারণা শেষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাওয়ার পথে দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট এলাকায় হাদিকে বহনকারী অটোরিকশার গতিরোধ করে মোটরসাইকেলে থাকা দুর্বৃত্তরা। এ সময় তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে পালিয়ে যায় তারা।

 

গুলিতে গুরুতর আহত হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের পর তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।

 

তদন্ত শেষে গত ৬ জানুয়ারি হাদি হত্যা মামলায় ১৭ জনকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। অভিযোগপত্রে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী, সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ অন্যদের নাম উল্লেখ করা হয়।

 

তবে ডিবির দেওয়া অভিযোগপত্রে আপত্তি জানিয়ে ১৫ জানুয়ারি আদালতে নারাজি আবেদন করেন মামলার বাদী আবদুল্লাহ আল জাবের। আদালত তার আবেদন মঞ্জুর করে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে দেওয়ার নির্দেশ দেন।

 

এরপর থেকে অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য একাধিকবার তারিখ নির্ধারণ করা হলেও নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন জমা পড়েনি। সর্বশেষ বৃহস্পতিবারও প্রতিবেদন না আসায় নতুন করে ২৭ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করা হলো।

 

এর আগে ডিবির তদন্তে বলা হয়েছিল, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে হাদিকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। একই সঙ্গে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করা এবং ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করাও হত্যাকাণ্ডের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল বলে তদন্তে উঠে আসে।

 

তবে মামলাটির অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন এখনো আদালতে জমা না পড়ায় এসব অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত তদন্তের ফলাফল জানা যায়নি।