হাসিনার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সম্পর্কে অবগত ছিল ভারত , তবে হস্তক্ষেপের সুযোগ ছিল না: জয়শঙ্কর

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর সম্প্রতি জানিয়েছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে যে শক্তিশালী বিক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছিল, সে সম্পর্কে ভারত অবগত ছিল, তবে ভারত এই বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপ করতে পারেনি। তিনি বলেছেন, ভারত বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত ছিল, কিন্তু হস্তক্ষেপের মতো কোনো পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব ছিল না।

একটি আলোচনায় জয়শঙ্কর জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্কের মন্তব্যের উল্লেখ করেন, যেখানে তুর্ক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে সতর্ক করেছিলেন যে, যদি তারা নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের ওপর হামলা চালায়, তবে তাদের শান্তিরক্ষা মিশন থেকে নিষিদ্ধ করা হতে পারে। এই বিষয়টি ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুসারে, ভারত এই পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতো, তবে সরাসরি কোন হস্তক্ষেপ করা সম্ভব ছিল না।

এছাড়াও, জয়শঙ্কর বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্কের উপরও আলোচনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশে “বহিরাগত শক্তির” ভূমিকা রয়েছে এবং চীনকে তিনি “প্রতিপক্ষ” না বলে বরং “প্রতিযোগী” হিসেবে দেখেন। একইভাবে, তিনি দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) নিয়েও আলোচনা করেছেন এবং উল্লেখ করেছেন যে, ২০১৪ সালের পর থেকে সার্কের শীর্ষ সম্মেলন হয়নি। ভারত ২০১৬ সালে পাকিস্তানে নির্ধারিত সার্ক সম্মেলনে অংশ না নেয়ার ঘোষণা দেয়, এবং এরপর থেকে ভারত বিমসটেক (বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টিসেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন) কে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে, যার ফলে সার্কের ভবিষ্যত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এছাড়া, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রকে ঢাকা পাঠানো হয়েছে, যা বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্কের উন্নতি এবং ঢাকা-দিল্লি উত্তেজনা কমানোর জন্য একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।