২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে নির্বাচন: প্রধান উপদেষ্টা

ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মার্চের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা হতে পারে। তবে নির্বাচনের সময়সূচি নির্ভর করছে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম কত দ্রুত সম্পন্ন করা যায় তার ওপর।

বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ড. ইউনূস বলেন, “যদি আমাদের কাঙ্ক্ষিত গতিতে সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা যায়, তাহলে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে নির্বাচন করা সম্ভব হবে। তবে যদি সংস্কারের মাত্রা বেশি হয়, তাহলে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।”

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গত বছর ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর যখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পরিচালনার দায়িত্ব নিতে বলা হয়, তখন তিনি বিস্মিত হয়েছিলেন। ড. ইউনূস বলেন, “আমি কখনো ভাবিনি যে আমাকে সরকারের নেতৃত্ব দিতে হবে। এর আগে আমি কখনো সরকারি কাজ পরিচালনা করিনি। তবে বাস্তবতা অনুযায়ী কাজ করতে হয়েছে।”

প্রধান উপদেষ্টা জানান, সরকারের প্রথম কাজ ছিল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করা এবং অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করা। তিনি বলেন, “আমরা সম্পূর্ণ বিশৃঙ্খল অবস্থা থেকে এসেছি, যেখানে মানুষকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল। এখন শান্তি ও শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং অর্থনীতিকে সঠিক পথে পরিচালিত করাই আমাদের অগ্রাধিকার।”

তবে সাত মাস পার হলেও ঢাকার সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে এখনও উদ্বেগ রয়েছে। এ প্রসঙ্গে ইউনূস বলেন, “বেটার (ভালো) একটি আপেক্ষিক শব্দ। যদি গত বছরের একই সময়ের সঙ্গে তুলনা করেন, তাহলে পরিস্থিতি এখন অনেক ভালো।”

বিগত সরকারের নানা কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমরা হঠাৎ করে কোনো আদর্শ দেশ বা শহর তৈরি করিনি। বর্তমান পরিস্থিতি আগের সরকারের রেখে যাওয়া বাস্তবতার ধারাবাহিকতা মাত্র।”

প্রসঙ্গত, ২০২৩ সালে ছাত্র ও জনতার ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়। এরপর থেকে তিনি ভারতে নির্বাসনে রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সাবেক সরকারের আমলে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠছে, যার তদন্ত চলছে।

ড. ইউনূস আশা করছেন, এই বছরের শেষের দিকে নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব হবে। তবে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা ও তার দল সেই নির্বাচনে অংশ নেবেন কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।