অনলাইন ডেস্ক:
ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে এক যুগান্তকারী মুহূর্তের সাক্ষী হলো মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম। দীর্ঘ ৯ বছরের অপেক্ষা ভেঙে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব ওয়ানডে ফরম্যাটে অবশেষে হারাল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আবাহনী লিমিটেডকে। ৩৯ রানের দাপুটে এই জয় শুধু ম্যাচ জেতার আনন্দ নয়, বরং হারানো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারেরও এক সাহসী বার্তা।
মোহামেডান প্রথমে ব্যাট করে সংগ্রহ করে ২৬৪ রান। জবাবে ব্যাট করতে নেমে আবাহনী গুটিয়ে যায় ২২৫ রানে। এবাদত হোসেন ও আনিসুল ইসলাম এই ঐতিহাসিক জয়ের নায়ক হয়ে উঠেন—একজন বল হাতে, অন্যজন ব্যাট হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে।
টস হেরে ব্যাট করতে নামে মোহামেডান। শুরুটা ভালো না হলেও ওপেনার আনিসুল ইসলাম ও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন দ্বিতীয় উইকেটে গড়েন ১২৩ রানের দুর্দান্ত জুটি। অঙ্কন ফিরে যান ৪৮ রানে, তবে ম্যাচের আসল চমক ছিলেন আনিসুল। ১১৮ বলে ১১৪ রানের ইনিংসে তিনি মারেন ১৮টি চার ও ২টি ছক্কা।
শেষ দিকে মুশফিকুর রহিম (২০), মেহেদী হাসান মিরাজ (১৮) ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (১৭) দলীয় রান বাড়াতে ভূমিকা রাখেন। তবে ৪৮.২ ওভারে ২৬৪ রানে অলআউট হওয়াটা কিছুটা হতাশার ছিল।
আবাহনীর হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন তরুণ পেসার নাহিদ রানা—৩ উইকেট নেন তিনি। এছাড়া মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী, মাহফুজুর রহমান রাব্বি ও রাকিবুল হাসান নেন দুটি করে উইকেট। একটি উইকেট পান মোসাদ্দেক সৈকত।
জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে আবাহনী। জিসান আলম, পারভেজ হোসেন ইমন ও মোহাম্মদ মিঠুন দ্রুত ফিরে গেলে চাপে পড়ে দল। তখন একপ্রান্ত আগলে রেখে ইনিংস গড়তে থাকেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। ১১৩ বলে ৮০ রানের ইনিংস খেলেন তিনি, তবে তাঁর সঙ্গে কেউই দীর্ঘস্থায়ী জুটি গড়তে পারেননি।
মুমিনুল হক (২৫), মোসাদ্দেক সৈকত (২৪) ও মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী (২৪) চেষ্টা করলেও ম্যাচ বাঁচানোর মতো জুটি গড়তে ব্যর্থ হন। শান্ত আউট হওয়ার পর কার্যত ধসে পড়ে আবাহনীর ব্যাটিং। শেষ পর্যন্ত ৪৭.২ ওভারে অলআউট হয়ে যায় দলটি।
মোহামেডানের পেসার এবাদত হোসেন ছিলেন আগুনে মেজাজে—তুলে নেন ৪টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। মেহেদী হাসান মিরাজ ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন পান দুটি করে উইকেট।
এই জয়ে পয়েন্ট তালিকায় মোহামেডান ও আবাহনীর সমান ১৮ পয়েন্ট হলেও, নেট রান রেটে এগিয়ে থেকে সুপার সিক্স পর্বে শীর্ষে রয়েছে আবাহনী। কিন্তু মানসিক শক্তির লড়াইয়ে জয়ী হয়েছে মোহামেডান—যারা ২০১৬ সালের পর আবাহনীর বিপক্ষে প্রথম জয় তুলে নিল।
এই জয় শুধু একটি ম্যাচ জেতা নয়, বরং অতীতের গৌরবময় দিনগুলোকে মনে করিয়ে দেওয়া। মোহামেডান যেন জানিয়ে দিল—তারা ফিরে এসেছে, এবার ইতিহাস গড়তে নয়, ইতিহাস ফিরিয়ে আনতে।










