মোঃ সাকিক হারুন ভূঁইয়া :
রাজধানী ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে নতুন করে বাস রুট রেশনালাইজেশন প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এবার রাজধানীর সমস্ত বাস একক কোম্পানির আওতায় নির্দিষ্ট রুট ধরে চলবে। একাধিক ব্যর্থ প্রচেষ্টার পর, নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং পরিবহন মালিকদের সহায়তায় এই উদ্যোগ সফল করার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
২০০৪ সালে প্রথমবারের মতো ঢাকা শহরের পরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা আনতে ‘বাস রুট রেশনালাইজেশন’ বা বাস রুট ফ্র্যাঞ্চাইজি চালুর পরামর্শ দেয়া হয়। ২০১৬ সালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের তৎকালীন মেয়র এই উদ্যোগের প্রথম পদক্ষেপ নেন। ২০১৮ সালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়রের নেতৃত্বে বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটি গঠন করা হয়, যার অধীনে ৪২টি রুটের জন্য ২২টি বাস কোম্পানির আওতায় বাস চালানোর প্রস্তাব দেয়া হয়।
২০২১ সালে ‘ঢাকা নগর পরিবহন’ নামে তিনটি রুটে পরীক্ষামূলকভাবে ৫০টি বাস চলাচল শুরু করলেও, একই রুটে অন্যান্য কোম্পানির বাস চলতে থাকার কারণে কিছুদিন পর সেগুলো বন্ধ হয়ে যায়। তবে, চলতি বছর নভেম্বরে অনুষ্ঠিত বাস রুট রেশনালাইজেশন কমিটির ২৯তম সভায় নতুন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এখন ঢাকার ৪২টি রুটের বাস কোম্পানিগুলো একক একটি কোম্পানির আওতায় পরিচালিত হবে এবং সেগুলোর নাম হবে ‘ঢাকা নগর পরিবহন’।
এই উদ্যোগে ১৭০টি বাস কোম্পানি আবেদন করেছে, এবং তাদের যাচাই-বাছাই চলছে। যারা শর্ত পূরণ করবে, তারা ঢাকার নগর পরিবহনের আওতায় আসবে। এর পাশাপাশি, রুট পুনর্বিন্যাস এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বাস মালিকদের সহায়তা এবং বাস শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হবে।
ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির আহ্বায়ক মো. সাইফুল আলম জানিয়েছেন, গত ১৫ বছর ধরে সড়ক পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হয়েছিল, তবে এখন মালিকরা চান সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসুক এবং শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য মজুরি পাক।
এদিকে, বাস রুট রেশনালাইজেশন প্রকল্পের পরিচালক ধ্রুব আলম জানিয়েছেন, ঢাকায় বর্তমানে ৩৮৮টি রুট রয়েছে, যেগুলোকে সমন্বয় করে ৪০ থেকে ৪৫টি রুটে পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে। এই নতুন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ঢাকার গণপরিবহন ব্যবস্থা আধুনিক এবং শৃঙ্খলিত হবে, যা নাগরিকদের জন্য একটি সুস্থ পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে।











