অনলাইন ডেস্ক:
রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অর্থনীতির মন্থর গতির কারণে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে গত সপ্তাহে (৪ থেকে ৮ মে) বড় ধরনের ধস দেখা গেছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)-এর সূচক এবং বাজার মূলধন কমেছে। বিশেষ করে, উভয় পুঁজিবাজারে মিলিয়ে মোট ৮,৬৫৪ কোটি ৬৪ লাখ টাকা বাজার মূলধন হ্রাস পেয়েছে।
বাজার মূলধনের পতন:
ডিএসই: বাজার মূলধন এক সপ্তাহে ৪ হাজার ১২৪ কোটি ৮১ লাখ টাকা কমে দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৫২ হাজার ৪৪৪ কোটি ৫৫ লাখ টাকায়।
সিএসই: বাজার মূলধন কমেছে ৪ হাজার ৫২৯ কোটি ৮৩ লাখ টাকা, যা নেমে এসেছে ৬ লাখ ৮৩ হাজার ২০২ কোটি ১০ লাখ টাকায়।
সূচকের পতন:
পুঁজিবাজারে সূচকেও পতন ঘটেছে।
ডিএসইএক্স (প্রধান সূচক) ১৫.৬৪ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৪,৯০২ পয়েন্টে (০.৩২% কম)।
ডিএসই-৩০ সূচক ২.৪৩ পয়েন্ট কমে ১,৮২০ পয়েন্টে (০.১৩% কম)।
ডিএসই শরিয়াহ সূচক ১৯.৯১ পয়েন্ট কমে ১,০৭৪ পয়েন্টে (১.৮২% কম)।
এসএমই ইনডেক্স ৭.৪৪ পয়েন্ট কমে ৯১৬ পয়েন্টে (০.৮১% কম)।
এছাড়া, সিএসই-এর সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১০১.৪৪ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৩,৭০৩ পয়েন্টে (০.৭৩% কম)।
লেনদেন পরিস্থিতি:
ডিএসই: লেনদেন বেড়ে হয়েছে ২,৪১৫ কোটি ৬৩ লাখ টাকা, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ১,০০৫ কোটি ৪৮ লাখ টাকা বেশি।
সিএসই: সিএসইতে লেনদেন কমে দাঁড়িয়েছে ৫২ কোটি ৪১ লাখ টাকা, যা আগের সপ্তাহের তুলনায় ১৬ কোটি ২২ লাখ টাকা কম।
কোম্পানির পারফরম্যান্স:
ডিএসই: ৩৯৪টি কোম্পানির শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, এর মধ্যে:
দর বেড়েছে: ১৪১টি
দর কমেছে: ২৩০টি
অপরিবর্তিত: ৩৭টি
লেনদেন হয়নি: ২৩টি
সিএসই: ৩০৭টি কোম্পানির শেয়ার লেনদেন হয়েছে, এর মধ্যে:
দর বেড়েছে: ১১১টি
দর কমেছে: ১৬৮টি
অপরিবর্তিত: ২৮টি
সংকটের কারণ:
বিশ্লেষকরা জানাচ্ছেন, বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নিম্নমুখী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কারণে বিনিয়োগকারীরা আস্থা হারাচ্ছেন, যার প্রভাব শেয়ারবাজারে পড়ছে। এর ফলে, বাজারের পরিস্থিতি আরও সংকটপূর্ণ হয়ে উঠেছে।











