এনবিআর সংস্কারের প্রতিবাদে তিন দিনের কর্মবিরতির ঘোষণা

নিজস্ব প্রতিবেদক:

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভেঙে দুটি আলাদা বিভাগ—রাজস্ব নীতি বিভাগ এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ—গঠনের সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তিন দিনের কর্মবিরতির ঘোষণা দিয়েছে এনবিআরের কাস্টমস, ভ্যাট ও আয়কর বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সংগঠন ‘এনবিআর ঐক্য পরিষদ’।

মঙ্গলবার (১৩ মে) এনবিআরের প্রধান কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত অবস্থান ও বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন অতিরিক্ত কমিশনার সাধন কুমার কুণ্ডু। তিনি জানান, আগামীকাল বুধবার থেকে শুরু হয়ে এই কর্মবিরতি চলবে বৃহস্পতিবার এবং শনিবার পর্যন্ত। কর্মসূচির আওতায় প্রতিদিন নির্ধারিত সময় পর্যন্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা স্বীয় দায়িত্ব থেকে বিরত থাকবেন।

বিক্ষোভে অংশ নিয়ে যুগ্ম কমিশনার মোনালিসা শাহরিন সুস্মিতা ও ফজলে এলাহী বক্তব্য রাখেন। বিকাল ৪টা থেকে অবস্থান কর্মসূচি শুরু হলে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান অন্য একটি সভায় অংশ নিতে অফিস ত্যাগ করেন।

এনবিআর ঐক্য পরিষদের দাবি, সরকার এনবিআর সংস্কার কমিটির সুপারিশকে উপেক্ষা করে এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই অধ্যাদেশ আকারে এই বিভাজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এনবিআরকে দুটি সত্তায় ভাগ করার ফলে রাজস্ব প্রশাসনে পেশাদারিত্ব ও দক্ষতা ব্যাহত হবে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

অভিযোগ রয়েছে, নতুন অধ্যাদেশে প্রশাসনিক ক্যাডারের কর্মকর্তা নিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে, যা এনবিআরের নিজস্ব পেশাগত কাঠামোকে দুর্বল করবে। একইসঙ্গে তারা এও অভিযোগ করেন যে, এনবিআর সংস্কার কমিটির প্রতিবেদন এখনো জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি এবং ইউনিটির পক্ষ থেকে দেওয়া সুপারিশ অধ্যাদেশে প্রতিফলিত হয়নি।

সরকারি ঘোষণায় বলা হয়েছে, রাজস্ব নীতি এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনার মধ্যে কার্যকর বিভাজনের মাধ্যমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও গতিশীলতা বৃদ্ধি করা হবে। এজন্য সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে অধ্যাদেশ জারি করা হচ্ছে, যা ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫’ নামে প্রজ্ঞাপিত হবে।

নতুন কাঠামো অনুযায়ী, রাজস্ব নীতি বিভাগ অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করবে এবং নীতিমালা প্রণয়ন, গবেষণা ও বিশ্লেষণমূলক কাজে নিয়োজিত থাকবে। অপরদিকে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ রাজস্ব আহরণ এবং বাস্তবায়ন কার্যক্রম পরিচালনা করবে।

তবে এনবিআর কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই কাঠামো বাস্তবায়িত হলে এনবিআরের দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক কাঠামো ভেঙে যাবে এবং রাজস্ব আহরণ কার্যক্রমে জটিলতা দেখা দিতে পারে। এই কারণে তাঁরা অবিলম্বে অধ্যাদেশ বাতিল করে আলোচনার ভিত্তিতে নতুন নীতিনির্ধারণের আহ্বান জানিয়েছেন।