অনলাইন ডেস্ক:
মানুষের একাকীত্ব, অস্তিত্ব সংকট এবং প্রাকৃতিক অনুষঙ্গের মধ্য দিয়ে জীবনের শূন্যতা ও ক্ষয়ের চিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন কবি রেহমান সিদ্দিক। সম্প্রতি প্রকাশিত তার কবিতা ‘পাখিজীবন’ আলোড়ন তুলেছে সাহিত্য অনুরাগীদের মাঝে।
কবিতার শুরুতে একটি কাকের মধ্য দিয়ে কবি রচনা করেন এক প্রতীকী চিত্র:
“কাকটি দুপুরবেলা রোদে ভিজে-ভিজে উড়ছিল / জ্ঞানশেষে ডানা ঝেড়ে ফেলে যায় ছায়ার ফসিল”
এই পঙ্ক্তিতে রোদে ভেজা কাক যেন এক ক্লান্ত যাত্রী, যে নিজের অস্তিত্ব রেখে যায় কেবল ছায়ায়। তার অস্তিত্বের ফসিল পড়ে থাকে রোদ্রচ্ছায়ার ধাঁধায়, কিন্তু দেখার কেউ নেই।
পরে কবি যেভাবে বলেন—
“এভাবেই দিনে-দিনে বড় হয় ছায়াবৃক্ষ নিজের ভেতরে / মধ্যমাঠে টেকের পরিধি বাড়ে – জমির জ্যামিতি”
এখানে কবি নিজের ভিতরে গড়ে ওঠা এক গভীর ছায়ালোকের কথা বলেছেন। মানুষের অভ্যন্তরে যে আত্মিক নির্জনতা ও দহন, তা যেন এই ছায়াবৃক্ষে রূপ নেয়। জমির জ্যামিতি কিংবা ছায়াবৃক্ষ—এসবই মানুষের মানসিক অবস্থার প্রতীক।
এই জ্যামিতির ভেতরেই, অর্থাৎ আত্মার ছায়াচ্ছন্ন পরিসরে, তিনি গড়ে তুলেছেন এক “পুরাণের পাখির জীবন”। কবি লেখেন—
“উড়ে-উড়ে সারাদিন শুঁকি কড়া রোদ / কাদায় ডুবিয়ে ঠোঁট / থিতু হয়ে বসে থাকি – ধ্যানমগ্ন অনন্তের বিলে”
এই পাখির জীবন আসলে এক গভীর আত্মদর্শনের অনুরণন। সারাদিন উড়ে ক্লান্ত পাখি যেন জীবনের অসীম শ্রম আর ক্ষয়ে যাওয়া মানুষের প্রতিচ্ছবি। ধ্যানমগ্ন হয়ে সে বসে থাকে অন্তহীন বিলে, কেবল অস্তিত্বের গন্ধ খুঁটে খায়—এটি নিঃসঙ্গ জীবনের এক রূপক মাত্র।
শেষাংশে কবি বলেন—
“সন্ধ্যাবেলা ডালের কঙ্কালে গলা ঘষি / আর চোখ বুজে / ডানার ফোস্কা দেখি, ক্ষতস্থান দেখি”
এটি যেন প্রতিদিনকার যন্ত্রণার একটি দৈহিক চিহ্নায়ন। কবি এখানে নিজের শারীরিক ও মানসিক ক্ষয়ের নিরেট চিত্র তুলে ধরেছেন, যা বর্তমান সময়ের মানুষকে গভীরভাবে স্পর্শ করে।
সাহিত্যবোদ্ধারা মনে করেন, ‘পাখিজীবন’ শুধু একটি কবিতা নয়—এটি একটি অস্তিত্ববাদী অভিজ্ঞতার ভাষ্য, যেখানে পাখির প্রতীক ব্যবহার করে তুলে ধরা হয়েছে মানুষের আত্মসংকট, নিঃসঙ্গতা ও নিরন্তর ক্ষয়ের চিত্র। এটি বর্তমান সময়ের মানুষের মানসিক বাস্তবতার এক প্রতিফলন।











