নিজস্ব প্রতিবেদক:
দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে অস্থির ও ধোঁয়াশাপূর্ণ আখ্যা দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি জাতীয় নির্বাচনের নির্দিষ্ট তারিখ দ্রুত ঘোষণার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক মুভমেন্টের (এনডিএম) অষ্টম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে লন্ডন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
তারেক রহমান বলেন, দেশের জনগণ এখন একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চায়। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন নিয়ে সরকার নানা শর্ত ও সময়ক্ষেপণের ফাঁদে ফেলছে। এতে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়ছে। তাঁর ভাষ্য, “অন্তর্বর্তী সরকারকে আবারও আহ্বান জানাচ্ছি— পরিস্থিতি ঘোলাটে না করে দ্রুত নির্বাচন অনুষ্ঠানের তারিখ ঘোষণা করুন।”
তিনি আরও বলেন, জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সরকার ছাড়া দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। একটি দায়বদ্ধ সরকার ছাড়া স্বৈরাচারকে মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়বে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
তারেক রহমান সরকারের সদিচ্ছা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে জনগণের শক্তিতে যাঁরা ক্ষমতায় এসেছেন, সেই সরকার ১০ মাসেও জুলাই-আন্দোলনের শহীদদের তালিকা দিতে পারেনি। এটি কি প্রশাসনিক অক্ষমতা, নাকি নিছক উদাসীনতা— এ প্রশ্ন এখন বহু মানুষের মনে।”
রোহিঙ্গা সংকট মোকাবেলায় ‘মানবিক করিডোর’ খোলা এবং চট্টগ্রাম বন্দরের একটি কন্টেইনার টার্মিনাল বিদেশি কোম্পানির কাছে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনারও তীব্র বিরোধিতা করেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা। তিনি বলেন, “এ ধরনের জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে পারে কেবল জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার। অন্তর্বর্তী সরকার এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রাখে না।”
তিনি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর শক্তিশালী চর্চা এবং রাজনৈতিক দলগুলোর কার্যকর ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, “এখনই সময় গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার, যাতে ভবিষ্যতে কোনো একনায়ক বা ফ্যাসিস্ট সরকার জনগণের অধিকার কেড়ে নিতে না পারে।”
তারেক রহমানের বক্তব্যে স্পষ্ট ছিল সরকারের প্রতি এক ধরনের অনাস্থা, একই সঙ্গে নির্বাচন ও জনগণের ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারে তার দলের অঙ্গীকার। তিনি বলেন, “সরকার কোনো করপোরেট কোম্পানি নয়, এটি একটি রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান, যার সঙ্গে প্রতিটি নাগরিকের সম্পর্ক রয়েছে। সেই দায়িত্বশীলতার জায়গা থেকে এখনই নির্বাচন নিয়ে সুস্পষ্ট অবস্থান নেওয়া দরকার।”











